সংবাদদাতা, লালবাগ: ভগবানগোলায় ১২ বছর আগে নাবালক খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিস। মঙ্গলবার ছেলেকে খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত বাবা ওয়াজেদ শেখকে রামপুরের ওই পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার দিন ভোররাতে নাবালক আসরাফুলকে কীভাবে খুন করে বাড়ির পিছনে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল সবটাই ভগবানগোলা এসডিপিও ও অন্যান্য পুলিস আধিকারিকদের সামনে পুনর্নির্মাণ করে দেখায় সে। এদিকে ছেলেকে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য ধৃত ওয়াজেদ শেখকে গ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে, এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামবাসীরা ওই বাড়ির সামনে জড়ো হন। পুলিস ওয়াজেদ শেখকে নিয়ে রামপুরে পৌঁছতেই গ্রামবাসীরা দুই অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে সরব হন। ভগবানগোলা এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন, ধৃত জেরায় জানিয়েছে সম্পত্তির জন্য ওইদিন ভোররাতে তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী সাগোরা বিবি শ্বাসরোধ করে ছেলেকে খুন করে। তারপর প্রমাণ লোপাটের জন্য দুজনে মিলে ঘরের পিছনে দেহ পুঁতে দেয়। প্রসঙ্গত, ছেলেকে খুনের ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার জিয়াগঞ্জ থেকে ওয়াজেদ শেখকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। যদিও সাগোরা বিবি এখনও অধরা।
Advertisement
প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বার বিয়ে করে ভগবানগোলা থানার কুঠিরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রামপুর এলাকার বাসিন্দা ওয়াজেদ শেখ। ওয়াজেদ দ্বিতীয় বার বিয়ে করায় তার মেয়ে আরজিনা খাতুন ও ছেলে আসরাফুল হক পাশের গ্রাম পুরাতন নওদাপাড়াতে দিদিমা জাসু বেওয়ার বাড়িতে পাকাপাকি ভাবে চলে আসে। ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে এক আত্মীয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে ছেলেমেয়েকে রামপুরের বাড়িতে নিয়ে আসে ওয়াজেদ। অনুষ্ঠান শেষে আরজিনা দিদিমার কাছে ফিরে গেলেও ওয়াজেদ কয়েক দিনের জন্য আসরাফুলকে নিজের কাছে রেখে দেয়। দিন চারেক পর ভাইয়ের খোঁজে রামপুরে আসে আরজিনা। কিন্তু ভাইকে খুঁজে পায়নি। গত বছর ১৫ জুলাই আরজিনা বাড়ি নিকোনোর জন্য বাবার ভিটেতে মাটি কাটতে যায়। কোদালের কয়েক কোপ মারতেই একে একে বেরিয়ে আসে স্কুলের পোশাক, কোমরের নাইলনের জালি, হাত-পায়ের হাড়, মাথার খুলি। স্কুলের পোশাক ও কোমরের নাইলনের জালি দেখে আরজিনা দাবি করে, ওই কঙ্কাল তার নিখোঁজ ভাই আসরাফুলের। এদিন রামপুরে এসেছিলেন জাসু বেওয়া। তিনি বলেন, জামাই ও তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী নাতিকে নৃশংসভাবে খুন করেছে। দুজনের ফাঁসির দাবি করছি।



