Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৭ বছর আগে রাস্তা হলেও কালভার্ট তৈরি না করেই পালিয়েছে ঠিকাদার

৭ বছর আগে রাস্তা হলেও কালভার্ট তৈরি না করেই পালিয়েছে ঠিকাদার
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুরের পানশিউলিতে সাতবছর আগে রাস্তা হলেও কালভার্ট তৈরি না করেই পালিয়েছে ঠিকাদার। প্রধানমন্ত্রী গ্রামসড়ক যোজনায় তৈরি ওই রাস্তায় কালভার্ট তৈরির জন্য বড় বড় পাইপ নামানো হলেও আজও একইভাবে তা পড়ে রয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ইস্টিমেটে বক্স কালভার্ট তৈরির কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পাইপ বসিয়ে দায়সারাভাবে কাজ সেরে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তখন তাতে আপত্তি জানানো হয়। কিন্তু, তারপর থেকে ছ’বছর কেটে গিয়েছে। আজও কালভার্ট তৈরি হয়নি। এব্যাপারে পঞ্চায়েতে ও প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই প্রতি বর্ষায় রাস্তার উপর জল বয়ে যায়। বাসিন্দাদের যাতায়াতে সমস্যা রয়েই গিয়েছে। এখন তাঁরা ইস্টিমেট অনুযায়ী কালভার্ট তৈরির দাবিতে ফের সরব হয়েছেন। 
Advertisement
ওই এলাকার জেলা পরিষদ সদস্য উজ্জ্বলা কবিরাজ বলেন, পানশিউলিতে কালভার্ট তৈরির সমস্যা আমার সময়ে হয়নি। আগে হয়েছে জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখব। 
এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কাজের বরাত পাওয়া ঠিকাদার বলেন, পানশিউলিতে বক্স কালভার্ট তৈরির কথা ছিল। কিন্তু, জমি সমস্যার জন্য পরবর্তীতে জেলা পরিষদ থেকে পাইপ দিয়ে কালভার্ট তৈরির কথা বলা হয়। সেই জন্য আমি পাইপ নামিয়েছিলাম। কিন্তু, গ্রামবাসীদের আপত্তিতে তা করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আমি জেলা পরিষদে জানিয়েছিলাম। তাই ওই কালভার্ট বাদ দিয়ে বাকি রাস্তা তৈরি করে দিয়েছি। কালভার্টের জন্য বরাদ্দ টাকাও আমি তুলিনি। 
এলাকায় গিয়ে দেখা গেল পানশিউলি গ্রামে ঢোকার ঠিক আগে রাস্তার উপর একটি নিচু কজওয়ে রয়েছে। এলাকার মাঠের জল ওই কজওয়ের নীচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। বাসিন্দারা জানিয়ছেন, নিচু হওয়ায় বর্ষার সময় কজওয়ের উপর দিয়ে জল বয়ে যায়। তখন স্কুলের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘুরপথে বিষ্ণুপুর শহরে যাতায়াত করতে হয়। শুধু পানশিউলি নয়, বাসুদেবপুর, ত্রিবঙ্ক, কানগোড় প্রভৃতি গ্রামের বাসিন্দারা ওই রাস্তা দিয়ে শহরে যাতায়াত করেন। ২০১৭ ময়রাপুকুর থেকে মাজডিহা পর্যন্ত ১৯কিলোমিটার প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনায় রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়। তার জন্য ৮কোটি ৩৭লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। ২০২০সালে তা সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু, আজও হয়নি কালভার্ট। 
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আমরা নিজেরা ইস্টিমেটে দেখেছি বক্স কালভার্ট তৈরির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু, ঠিকাদার পাইপ দিয়ে তা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই জন্য আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম। তার কারণ একই রাস্তায় আরও যেসব কালভার্ট পাইপ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যেই তা বসে যায়। তারপর থেকে ঠিকাদার আর এলাকায় আসেননি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু, এব্যাপারে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তারপর আরও কয়েকবছর কেটে গেল। ঠিকাদারের নামানো তিনটি বড় পাইপ আজও সেখানে রয়ে গিয়েছে। আমরা চাই কজওয়েতে কালভার্ট তৈরির বিষয়ে প্রশাসন উদ্যোগ নিক।
সম্পর্কিত সংবাদ