নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বোধদয়। ভুল স্বীকার। অনুশোচনা। প্রায়শ্চিত্ত। এতদিনে আত্মোপলব্ধি হল কংগ্রেসের। ১৯৯৭ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল না, তা আজ খোলা মঞ্চ থেকে জানান দিতে হল কংগ্রেস নেতাকে। ওই সূত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও দাবি করা হল, ‘অগ্নিকন্যা’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি তৃণমূলই এখন আসল কংগ্রেস হয়ে গিয়েছে।
Advertisement
১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস। এবছরই ২৮তম প্রতিষ্ঠা দিবসের উদযাপন করেছেন তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। শপথ নেওয়া হয়েছে, বাংলার মানুষের স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার। ঠিক তার পাঁচদিনের মধ্যে প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতার বিবৃতি রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। প্রয়াত সোমেন মিত্রের আবক্ষ মূর্তির উন্মোচনে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য স্বীকার করলেন, সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিষ্কারের প্রায়শ্চিত্ত আজও কংগ্রেসকে করতে হচ্ছে। আমি জানি না এই খাদ থেকে কবে, কখন, কীভাবে কংগ্রেস উঠে আসবে। ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস থেকে মমতাকে বহিষ্কারের সেই ঘটনা প্রকাশ্যে রোমন্থন করেছেন প্রদীপবাবু। তিনি বলেছেন, সীতারাম কেশরী সেদিন চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। সোমেন মিত্রকে বাধ্য করা হয়েছিল মমতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার জন্য। ওইদিন সীতারাম কেশরী বলেছিলেন, তোমরা এখনই মমতাকে দল থেকে বহিষ্কার করো। আমি তখন সোমেন মিত্রকে বলেছিলাম, মমতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। এই পদক্ষেপ করতে তাঁকে বারণও করেছিলাম আমি। কিন্তু দিল্লির কংগ্রেস নেতৃত্বের চাপেই ওই অবাঞ্ছিত সিদ্ধান্ত নিতে সেদিন বাধ্য হতে হয়েছিল প্রদেশ নেতৃত্ব। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারের ‘ঐতিহাসিক ভুল’-এর ফল এখন প্রতিটি পদক্ষেপে টের পাচ্ছেন কং নেতারা। মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মানস ভুঁইয়া। বলছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলাদা দল গঠন না করলে সিপিএমকে হটানো যেত না। কংগ্রেস কর্মীদের কাছে আবেদন, আসুন তৃণমূল নেত্রীর হাত শক্ত করুন মমতার সঙ্গে দুই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী এবং নরসিমা রাওয়ের সম্পর্ক কতটা সুমধুর ছিল তা সকলেই জানেন। কিন্তু সীতারাম কেশরীর মতো কয়েকজন নেতা যে মমতার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার পক্ষপাতী ছিলেন না, বিভিন্ন ঘটনাতেই তা প্রমাণিত। মানস ভুঁইয়ার স্মৃতিচারণ, ১৯৯৬ সালে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ১৩ নম্বর তালকাটোরার বাড়িতে নির্বাচন কমিটির যে বৈঠক হয়েছিল, দলে আড়াআড়ি বিভাজনটা হয়ে যায় সেখানেই।



