Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১২ বছর আগে ছেলেকে খুন, ভগবানগোলায় পাকড়াও বাবা

১২ বছর আগে ছেলেকে খুন, ভগবানগোলায় পাকড়াও বাবা
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর ও সংবাদদাতা, লালবাগ: নিজের ছেলেকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হল বাবা। ভগবানগোলা থানার কুঠিরামপুর পঞ্চায়েতের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা আরজেদ শেখ ওরফে বাবুকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যায় আরজেদের ন’বছরের ছেলে আশরাফুল শেখ। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পরিত্যক্ত বাড়ির পিছনের জমির মাটি খুঁড়তেই উদ্ধার হয় কঙ্কাল ও মাথার খুলি। পুলিস উদ্ধার হওয়া দেহাংশ পরীক্ষার জন্য পাঠায়। সেইসঙ্গে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার সাত মাসের মাথায় রহস্য উদ্ঘাটন করল পুলিস। ধৃতকে শুক্রবার লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,আরজেদের প্রথম পক্ষের স্ত্রী জেসমিনা বিবির মৃত্যুর পর সে আবার বিয়ে করে। দ্বিতীয় স্ত্রী সাগোরা বিবির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রথম পক্ষের দুই ছেলেমেয়ে আরজিনা খাতুন ও আশরাফুল পাশের গ্রাম পুরাতন নওদাপাড়ায় দিদিমার বাড়িতে চলে যায়। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে রামপুরে একটি অনুষ্ঠানে আরজেদ প্রথম পক্ষের দুই ছেলেমেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসে। অনুষ্ঠান শেষে আরজিনা দিদিমার কাছে ফিরে যায়। আর আশরাফুল বাবার কাছে থেকে যায়। দিন কয়েক পর আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল। নজর ঘোরাতে আরজেদ ভগবানগোলা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে। পুলিস কয়েকদিন খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে আর গুরুত্ব দেয়নি। এই ঘটনার কিছুদিন পর দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেও আরজেদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পরবর্তীতে আরজেদ তৃতীয় বিয়ে করে জিয়াগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতে শুরু করে। রামপুরের বাড়িটি ফাঁকা পড়েছিল। 
এদিকে রামপুর গ্রামেই বিয়ে হয় আরজেদের মেয়ে আরজিনার। গত বছর ১৫ জুলাই আরজিনা বাবারবাড়ির পিছনে জমির মাটি কাটছিল। কোদালের কয়েক কোপ দিতেই প্রথমে প্যান্ট এবং হাড়গোড়, মাথার খুলি ও কোমরের জালি বেরিয়ে আসে। তা দেখে আরজিনা নিশ্চিত হয় সেগুলি তার ভাই আশরাফুলের। পুলিস আবার নতুন করে তদন্ত শুরু করে। তবে পুলিস আধিকারিকদের সন্দেহ হয় ওই নাবালকের বাবার উপরেই। 
পুলিস গোপনে আরজেদের উপর নজরদারি শুরু করে। পুলিসের নজরদারির কথা জানতে পেরে চেন্নাইয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে চলে যায় আরজেদ। পুলিস খুনের কিনারা করতে আরজেদের ফোনের কথাবার্তা শুনতে শুরু করে। ফোনের কথপোকথনে পুলিস নিশ্চিত হয় যে আরজেদই ছেলেকে খুন করেছে। এই ঘটনায় তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীরও মদত ছিল। গত জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আরজেদ চেন্নাই থেকে ফিরে উত্তর ২৪ পরগনার বারুইপুরের একটি জায়গায় রাজমিস্ত্রির কাজ করছিল। বুধবার জিয়াগঞ্জে তৃতীয় পক্ষের স্ত্রীর বাড়িতে আসে আরজেদ। পুলিস খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে। 
ভগবানগোলার এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন, তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা নিশ্চিত হই আরজেদ ও তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী মিলে ওই নাবালককে খুন করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জিয়াগঞ্জ থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। খুব শীঘ্রই অপরজনকে গ্রেপ্তার করা হবে। উদ্ধার হওয়া হাড়গোড় ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। 
দিদিমা জাসু বেওয়া বলেন, আরজেদ এবং তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী মিলেই নাতিকে খুন করেছে। প্রমাণ লোপাটের জন্য মাটির তলায় পুঁতে দিয়েছিল। পুলিস আরজেদকে ধরেছে। ওর দ্বিতীয় পক্ষের বউকে ধরে, দু’জনকেই  চরম শাস্তি দিক।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ