নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেল দেশের নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী) দল। কার্যত ধুলিসাৎ হয়ে গেল মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল বলে পরিচিত সদর দপ্তর অবুঝমাড়। পতন বোধহয় এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। ঘরোয়া আলোচনায় একান্তে এরাজ্যের মাওবাদীরাও স্বীকার করছেন, ‘ এই সংকটময় মুহূর্তে দলের হাল ধারার আর কেউ রইল না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশ থেকে মাওবাদীদের নিকেশ করতে আগামী মার্চ মাসকে ডেডলাইন ধার্য করেছিলেন। দেশজুড়ে যৌথবাহিনীর লাগাতর অভিযানের মুখে কয়েক মাস আগে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিল মাওবাদীরা। তখনই ইঙ্গিত মিলেছিল, সম্ভবত দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে তাদের। তারপরই মঙ্গলবার রাতের অভিযানে গুলির লড়াইতে মৃত্যু হল মাওবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজুর।
১৪ বছর আগে জঙ্গলমহলে নিহত হয়েছিলেন কিষেনজি। কিষেনদা ওরফে প্রশান্ত বোস জেলবন্দি। গণপতি গুরুতর অসুস্থ, কার্যত অথর্ব। ফলে একদা দেশের ‘ত্রাস’ মাওবাদীরা এখন কার্যত অভিভাবকহীন। একমাত্র কার্যকরী নেতা কিষেনজির ভাই বেণুগোপাল। আর মঙ্গলবার রাতের অভিযানে খতম দলের সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজু।
কে এই বাসবরাজু? পোশাকি নাম নামবালা কেশব রাও। পার্টিতে একাধিক ছদ্মনাম ছিল তার। কট্টর বামপন্থায় বিশ্বাসী একটি দলের দেশের প্রধান মাথা। শেষকথাও। ২০১৭ সালে গণপতির অবসরের পর থেকে বাসবরাজুই দলের সাধারণ সম্পাদক। সুকমায় সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলায় ৭৪ জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় মূল চক্রী ছিলেন বাসবরাজুই।
অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলামের ভূমিপুত্র। কিষেনজির মতো বাসবরাজুও ইঞ্জিনিয়ার। ওয়ারেঙ্গল রিজিওন্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বি টেক পাশ করেন। ছ’ফুটের ওপর উচ্চতা। দক্ষ ভলিবল খেলোয়ার। এমনকী অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য দলেরও প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই কট্টর বামপন্থায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। ১৯৮০ সালে শেষবার পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তারপর আর পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
দলের একাংশ বলেন, গণপতি তাকে নিজে হাতে গড়েছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের মাথা হিসেবে দেশজুড়ে সমস্ত অপারেশনের পরিকল্পনা ও কার্যকর করতেন তিনি। ১৯৮৭ সালে দক্ষিণ ভারতের জঙ্গলে শ্রীলঙ্কার জঙ্গি সংগঠন এলটিটিই-র কাছে গেরিলা যুদ্ধের কৌশলের পাশাপাশি ল্যান্ড মাইন, আইইডি বিস্ফোরণের কলাকৌশল হাতেকলমে শিখেছিলেন এই বাসরবাজু, কিষেনজি, বেণুগোপালরা। কিষেনজি আগেই খতম। এবার নিকেশ বাসবরাজু। তার মাথার দাম ছিল ১.৫ কোটি টাকা।