Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মৃত্যু পথযাত্রী রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠাল বারাসত হাসপাতাল

মুখে দেওয়া হচ্ছিল গঙ্গাজল। আর কানের কাছে বিড়বিড় করে শোনানো হচ্ছিল হরিনাম। মৃত্যুর প্রহর গুনছিল গোটা পরিবার।

মৃত্যু পথযাত্রী রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠাল বারাসত হাসপাতাল
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মুখে দেওয়া হচ্ছিল গঙ্গাজল। আর কানের কাছে বিড়বিড় করে শোনানো হচ্ছিল হরিনাম। মৃত্যুর প্রহর গুনছিল গোটা পরিবার। এমনকী আত্মীয়দের ফোন করেও ‘মৃত্যু সংবাদ’ পাঠানো শুরু হয়েছিল। মৃত্যু পথযাত্রী এই রোগীকে শেষ অবধি সুস্থ করে বৃহস্পতিবার বাড়ি পাঠাল বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

Advertisement

৭১ বছর বয়সি নিমাইচন্দ্র পাল অশোকনগরের গুমার নেতাজিনগরের বাসিন্দা। বয়সজনিত কারণে শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি তাঁর ছিল উচ্চ রক্তচাপ, সুগার ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা। ৮ এপ্রিল সকাল ১০টা নাগাদ বাড়িতেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন নিমাইবাবু। স্থানীয় ডাক্তার বলেছিলেন, হাতে আর সময় নেই। আয়ু আর কিছুক্ষণ মাত্র। ডাক্তার জবাব দিয়ে যাওয়ায় কান্নার রোল ওঠে বাড়িতে। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের লোকজন শেষ চেষ্টা হিসেবে তাঁকে নিয়ে ছোটেন বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। মেল ওয়ার্ডের ৪৪ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয় তাঁকে। অতিরিক্ত শ্বাসকষ্টের কারণে তখন নিমাইবাবুর মৃতপ্রায় অবস্থা। অক্সিজেন দেওয়া হলেও তা টানার ক্ষমতা ছিল না তাঁর। এই পরিস্থিতিতে ছেলে বিশ্বজিৎ বাবার কানের কাছে মুখ নিয়ে হরিনাম শোনাচ্ছিলেন। আর মেয়ে কল্যাণী পাল মুখে ফোঁটা ফোঁটা করে গঙ্গাজল দিচ্ছিলেন। ওয়ার্ডে রাউন্ডে দিতে এসে এই দৃশ্য দেখে অবাক সুপার ডাঃ সুব্রত মণ্ডল। তিনি ততক্ষণাৎ সবাইকে সরিয়ে দিয়ে রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রেখে শুরু হয় চিকিৎসা। নিমাইবাবুর প্রাণ তখন সুতোর উপর ঝুলছে। এই ভালো, পর মুহূর্তেই খারাপ। ডাক্তার ও চিকিৎসা কর্মীদের আপ্রাণ চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠলেন নিমাইবাবু। ভর্তির সময় যে রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ছিল ৫০-এর কম, সেই তিনি এখন স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছেন। এদিনই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ছেলে বিশ্বজিৎ পাল বলেন, আমরা ধরেই নিয়েছিলাম বাবাকে আর ফিরে পাব না। তাই, হাসপাতালের বেডে বাবার কানে হরিনাম শোনাচ্ছিলাম আমি। আর বোন মুখে গঙ্গাজল দিচ্ছিল। হাসপাতালের সুপারের জন্যই বাবাকে ফিরে পেলাম। বাবার মৃত্যু কার্যত নিশ্চিত জেনে দু’-একজন আত্মীয়কে ফোন করে মৃত্যুর খবরও জানিয়েছিলাম। অনেকে বাড়িতে চলে এসেছিল। কান্নার রোল পড়েছিল বাড়িতে। শেষমেশ বারাসত হাসপাতালের দৌলতেই হাসি ফুটেছে বাড়িতে। নিমাইবাবু এদিন বাড়ি ফিরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ডাক্তারবাবু আমাকে নতুন করে জীবন দান করেছেন। হাসপাতাল সুপার ডাঃ সুব্রত মণ্ডল বলেন, ওনাকে বাঁচানোই ছিল আমার চ্যালেঞ্জ। রেসপিরেটরি ফেইলিওর হয়েছিল। আইসিইউতে সবরকম মেডিক্যাল সাপোর্টে রেখে চিকিৎসা করা হয়। ডাঃ মণ্ডলের কথায়, করোনাকালে এই সমস্যার কারণেই আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। নিমাইবাবুকে সেদিন ওই অবস্থায় দেখে পুরনো জেদ কাজ করেছিল। মনে হয়েছিল, এত সহজে হাল ছাড়লে হবে না। অবশেষে সাফল্য পেলাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ