নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: এবার নবম শ্রেণিতে উঠেছে জলপাইগুড়ির নতুনপাড়ার বাসিন্দা অর্কপ্রভ বক্সি। পড়াশোনার চাপ। স্কুল-টিউশন সামলে যদিওবা কখনও সামান্য ফুরসত পাওয়া যায়, স্মার্ট ফোনে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাটিং। নতুবা মগ্ন ভিডিও গেমে। মাঠে যাওয়া আর হয়ে ওঠে না। একই অবস্থা সেনপাড়ার বাসিন্দা চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া দেবপ্রিয় সেনের। স্কুল আর বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যেই বেড়ে ওঠা।
রবিবার অবশ্য ওদের দিনটা কাটল অন্যরকমভাবে। ‘হারানো শৈশব’ ফিরিয়ে দিতে তিস্তাপাড়ে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। উদ্যোক্তা জলপাইগুড়ি কাইট ফ্লাইং অ্যাসোসিয়েশন। ছুটির দিনে বাবা-মায়ের হাত ধরে দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর সেখানেই হাজির হয় অর্কপ্রভ, দেবপ্রিয়, চন্দ্রার্করা। এসেছিল দেবস্মিতা, তনুশ্রীদের মতো ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্রীরাও। মূলত বড়দের জন্য প্রতিযোগিতার আয়োজন হলেও পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মুখপোড়া, লাঙল, মোমবাতি ঘুড়ির তিস্তাপাড়ের আকাশে ওড়ার দৃশ্য তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে ছোটরাও।
মূল প্রতিযোগিতার বাইরে খুদেদের জন্য কাগজের রঙিন ঘুড়ি, সুতো ও লাটাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল উদ্যোক্তাদের তরফে। বড়দের সাহায্য নিয়ে তিস্তার চরে তারা সেই ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দে মেতে ওঠে। আর এদিন মুঠোফোনে মুখ ডুবিয়ে রাখা নয়া প্রজন্মকে ঘুড়ির কল খাটানো, সুতোয় মাঞ্জা দেওয়া থেকে মাঝআকাশে ঘুড়ির লড়াইয়ের মারপ্যাঁচ শেখাতে পেরে খুশি উদ্যোক্তারা।
জলপাইগুড়ি কাইট ফ্লাইং অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক দীপাঞ্জন বক্সি বলেন, ঘুড়ি আর শৈশবের একটা দারুণ যোগসূত্র। বিশ্বকর্মাপুজো হোক কিংবা সরস্বতীপুজো, আকাশে ঘুড়ির লড়াই দেখতে দেখতেই বড় হয়েছি আমরা। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলেছে। কিন্তু ঘুড়ির কথা মনে পড়লেই যেন আমাদের সামনে উঁকি দেয় ছোটবেলার দিনগুলি। শৈশবকে ফিরে দেখতেই আমরা এই ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম। বারাণসী, বরেলি থেকে ঘুড়ি আনা হয়েছিল। খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। ৫০ জনেরও বেশি মানুষ এদিন ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতায় শামিল হন। ছিল আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থাও। দীপাঞ্জনবাবু আরও বলেন, ঘুড়ি ওড়ানো তো দূরের কথা, বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা মাঠেই আসে না। মোবাইলেই বুঁদ তারা। ছেলেমেয়েদের মাঠমুখী করতে ঘুড়ি সাহায্য করতে পারে। বড়দের হাত ধরে এদিন বেশকিছু শিশু এসেছিল। তাদের ঘুড়ি-লাটাই দেওয়া হয়। নিজের হাতে ঘুড়ি ওড়াতে পেরে দারুণ খুশি হয়েছে তারা।
জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ছেন উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার বাসিন্দা শুভ্রজ্যোতি পাল। ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতায় শামিল হয়ে বলেন, বহুদিন পর আবার ঘুড়ি-লাটাই হাতে নিতেই ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। স্টেট কো-অপারেটিভে চাকরি করেন হুগলির উত্তরপাড়ার বাসিন্দা শুভানু ঘোষ। তিনিও ঘুড়ির লড়াই থেকে দূরে রাখতে পারেননি নিজেকে। ঠিক যেমন ঘুড়ির টানে এদিন তিস্তাপাড়ে ছুটে আসেন জলপাইগুড়ির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার উত্তম বসু।