সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ঋণ না নিলেও এক লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা বকেয়া মেটানোর জন্য সমবায় সমিতির নোটিস পেয়ে তাজ্জব পাত্রসায়রের গ্রামবেড়ার এক ব্যক্তি। নোটিস পেয়ে ওই সমবায়ের কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানালেও বিশ্বাস না করায় পাত্রসায়রের ডান্না কোন্নগর সমবায় সমিতি ও বাঁকুড়া ডিস্ট্রিক্ট সেন্ট্রাল কো অপারেটিভ ব্যাঙ্কের পাত্রসায়র শাখা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তিনি থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর অজান্তে কে বা কারা ওই ঋণ নিয়েছে উপযুক্ত তদন্ত করে দোষীর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত চলছে। এব্যাপারে ডান্না কোন্ননগর সমবায় সমিতির ম্যানেজার প্রদীপ চক্রবর্তীকে ফোন করা হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
তবে বাঁকুড়া ডিস্ট্রিক্ট সেন্ট্রাল কো অপারেটিভ ব্যাঙ্কের পাত্রসায়র শাখার ফিল্ড অফিসার উজ্জ্বল কুণ্ডু বলেন, ডান্না সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে ভুয়ো ঋণের বিষয়ে যে অভিযোগ হয়েছে তা জেলা সমবায় দপ্তর থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। অবশ্য অভিযোগকারী এনিয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামবেড়া গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে বাঁকুড়া ডিস্ট্রিক্ট সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে একটি ঋণ পরিশোধের নোটিস আসে। তাতে বলা হয় যে, আসল ও সুদ মিলিয়ে মোট এক লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা তাঁর বকেয়া রয়েছে। তা ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেটাতে হবে। বকেয়া না মেটালে ব্যাঙ্ক তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে। নোটিস পেয়ে ওই ব্যক্তি হতবাক হয়ে যান। শুধু এবার নয়, ঋণ পরিশোধের জন্য আগেও ডান্না কোন্নগর সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে তাঁর কাছে একাধিক নোটিস পাঠানো হয়েছে। তারপরেও লোন পরিশোধ না করায় এবার সরাসরি ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে ওই নোটিস পাঠানো হয়েছে।
ব্যাঙ্কের নোটিস পাওয়ার পরই তিনি স্থানীয় ডান্না কোন্ননগর সমবায় সমিতিতে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যে তিনি নাকি ওই সমবায় সমিতির মাধ্যমে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ব্যাঙ্ক থেকে ৭৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। আজ পর্যন্ত তা পরিশোধ করেননি। বর্তমানে যা সুদে আসলে বেড়ে এক লক্ষ ৪৩ হাজার ৫৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এরপর তিনি ও ই লোন এগ্রিমেন্ট পেপারে করা স্বাক্ষর দেখতে চান। সমিতির কর্মকর্তারাও দেখেন যে তাঁর সইয়ের সঙ্গে এগ্রিমেন্টে করা সই মিলছে না। তাহলে ওই লোন কে নিল? এই প্রশ্নের জবাব না পেয়ে তিনি বাধ্য হয়ে ওই সমবায় সমিতি ও ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে পাত্রসায়র থানায় গত ২১ মার্চ অভিযোগ দায়ের করেন। ইতিমধ্যে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
একই সঙ্গে অন্যের নামে জালিয়াতি করে কে বা কারা ওই ঋণ নিয়েছে পুলিস তা খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনায় সমিতি বা ব্যাঙ্কের কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিস জানিয়েছে।