Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলার বাড়ি: প্রথম কিস্তির ৫৩৫ কোটি টাকা পাবেন আরও ৮৯ হাজার ১৯৪ জন

পূর্ব মেদিনীপুরে আরও ৮৯ হাজার ১৯৪জন বাংলার বাড়ি(গ্রামীণ) তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির টাকা পাচ্ছেন। ওই সংখ্যক উপভোক্তার নাম জেলা প্রশাসন অনুমোদন করে দিয়েছে।

বাংলার বাড়ি: প্রথম কিস্তির ৫৩৫ কোটি টাকা পাবেন আরও ৮৯ হাজার ১৯৪ জন
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরে আরও ৮৯ হাজার ১৯৪জন বাংলার বাড়ি(গ্রামীণ) তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির টাকা পাচ্ছেন। ওই সংখ্যক উপভোক্তার নাম জেলা প্রশাসন অনুমোদন করে দিয়েছে। সেই তালিকা রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছে। দ্রুত প্রথম কিস্তি বাবদ মাথাপিছু ৬০ হাজার টাকা করে ঢুকবে বলে জানা গিয়েছে। শুধুমাত্র পূর্ব মেদিনীপুরেই প্রথম কিস্তি বাবদ প্রায় ৫৩৫কোটি টাকা উপভোক্তাদের দেওয়া হবে। আগে এই জেলায় ৫৫ হাজার উপভোক্তা পাকাবাড়ি তৈরির টাকা পেয়েছেন। প্রায় ৯০ হাজার নাম পার্মানেন্ট ওয়েটিং লিস্টে(পিডব্লুএল) ছিল। প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় তাঁদের প্রত্যেকের বাড়ি সার্ভে করে গ্রাম সংসদ সভায় পাশ করানোর পর লিস্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে। অবশেষে তাঁদের অ্যাকাউন্টে বাড়ি তৈরির টাকা ঢুকতে চলেছে।

Advertisement

অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) মানস মণ্ডল বলেন, আমাদের জেলায় নতুন করে ৮৯ হাজার ১৯৪জন বাংলার বাড়ি(গ্রামীণ) প্রকল্পে বাড়ি তৈরির টাকা পাবেন। তাঁদের নাম অনুমোদন হয়েছে। রাজ্য থেকে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভগবানপুর-১ ব্লকে ৩৮৫০জন, ভগবানপুর-২ ব্লকে ৩৩৯৩জন, ময়নায় ৪৪২৪জন, খেজুরি-২ ব্লকে ৪৩৯৭জন বাংলার বাড়ি(গ্রামীণ) তৈরির জন্য ৬০ হাজার টাকা করে পাবেন। এছাড়া, তমলুক ব্লকে ২৬৮৫জন, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে ১৭১৪জন, পটাশপুর-১ ব্লকে সর্বাধিক ১০ হাজার ৯৭জন, পটাশপুর-২ ব্লকে ৫২৫১জন, এগরা-১ ব্লকে ৬৯৮৭জন, পাঁশকুড়ায় ৫৪৮২জন এবং কোলাঘাটে আরও ৩৪৩৩জন বাড়ি তৈরির টাকা পেতে চলেছেন।
এই জেলায় ২৫টি ব্লকে পাকাবাড়ি পাওয়ার জন্য মোট ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৯০৩জনের বাড়ি সার্ভে হয়েছিল। ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর বৈধ উপভোক্তা হিসেবে মোট ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৭১জনের নাম প্রকাশিত হয়। প্রায় ৩৭ হাজার নাম বাদ পড়ে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এই জেলায় ৫৫ হাজার উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া শুরু করে রাজ্য। তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির ৫০ হাজার টাকাও দেওয়া হয়। ওইসব উপভোক্তার বাড়ি তৈরির কাজ শেষ। এখন দ্বিতীয় ধাপে আরও প্রায় ৯০ হাজার উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া হবে।
তবে, সার্ভে চলাকালীন অনেকে বাদ যাওয়ায় ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’র নম্বরে ফোন করেছিলেন। যেমন, পাঁশকুড়া ব্লকের রাধাবল্লভচক গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তথা ১২বছরের প্রাক্তন অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সুনীল গুছাইত এখনও টিনের ছাউনি দেওয়া মাটির বাড়িতে বসবাস করেন। তাঁর বাড়ি ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের মাগুরী উত্তরসাই গ্রামে। সুনীলবাবু ১৯৯৯-২০০৪ সাল পর্যন্ত রাধাবল্লভপুরের তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন। ২০১২-২০২৪ সাল পর্যন্ত দলের অঞ্চল সভাপতি। আজও টিনের ছাউনি দেওয়া জীর্ণ মাটির ঘরেই বসবাস করেন। আবাস যোজনায় বাড়ি পাওয়ার জন্য সুনীলবাবুর ছেলে সুব্রত গুছাইত সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নম্বরে ফোন করেন। গত সপ্তাহে এনিয়ে বিডিও অফিস থেকে ফোন করে যোগাযোগ করা হলেও বাড়ি সার্ভে হয়নি। সুব্রতবাবু বলেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা পেলে আমরা একটা পাকাবাড়ি বানাতে পারতাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ