নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও কলকাতা: ভিন রাজ্যে ফের ‘আক্রান্ত’ বাঙালি! অপরাধ বাংলায় কথা বলা। ব্যবসার জন্য ওড়িশায় গিয়ে পুলিসের হাতে আটক বারাসত মহকুমার চার যুবক। মিলছে না উপযুক্ত খাবার এবং পানীয় জলটুকুও। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত বিপাকে পড়ে গিয়েছে চারটি পরিবার। প্রশাসনের কাছে পরিবারের আর্জি, দ্রুত তাদের বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক। ওই শ্রমিকদের দ্রুত বাড়ি ফেরাতে নবান্নও তৎপর। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হতেই বাংলার মুখ্যসচিব চিঠি দিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যসচিবকে।
সপ্তাহখানেক আগে কদম্বগাছির কালসারা এলাকা থেকে ওড়িশায় শাড়ি বেচতে গিয়েছেন মফিজুল হক, ফারুক আহমেদ থান্ডার ও নাসির আহমেদ থান্ডার। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন দেগঙ্গার হাবিব জমাদারও। বুধবার বৃষ্টির কারণে তাঁরা হোটেলেই ছিলেন। হঠাৎ বিকালে ওড়িশার ভদ্রক টাউন থানার পুলিস ওই হোটেলে হানা দেয়। কোনও কথা না শুনেই সটান তাঁদের থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশি সন্দেহে সেখানেই তাঁদের আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় এই অসহায়তার কথাই জানিয়েছেন ওই চারজন। তাঁরা বলেছেন, ভোটার, আধার, প্যানসহ ভারতীয় প্রমাণের সমস্ত কাগজ দেখানোর পরেও পুলিস তাঁদের ছাড়েনি। বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বারবার নির্যাতন করা হচ্ছে। মিলছে না উপযুক্ত খাবার, এমনকী সামান্য পানীয় জলও। বাড়ি থেকে জমির প্রমাণপত্র দেখানোর পরেও তাঁদের ছাড়া হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই চরম অসহায় বোধ করছে পরিবারগুলি। মফিজুলের ছেলে মহম্মদ মিনহাজ বলেন, ‘আমরা ভারতীয়। কিন্তু তারপরেও দেশেরই অন্য একটি রাজ্য আমাদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দেগে দিচ্ছে! আমাদের একমাত্র ‘অপরাধ’ আমরা বাঙালি। বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের উপর এই ধরনের অত্যাচার চলছেই। আমরা ভারতীয় তার সমস্ত প্রমাণ পাঠিয়েছি। কিন্তু তারপরেও বাবা ও তাঁর বন্ধুদের ওড়িশার পুলিস ছাড়েনি। এখনও থানায় তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে।’ মিনহাজ আরও বলেন, ‘আমার বাবা এমনিতেই অসুস্থ। নিত্য দামি ওষুধ খেতে হয়। বাবার যদি কোনও বিপদ হয়ে তার দায় কে নেবে?’
অন্যদিকে, আটকে থাকা নাসির আহমেদ থান্ডারের স্ত্রী আমিনা বিবি কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, ‘দেশের মধ্যেই আমাদের বাংলাদেশি তকমা পেতে হচ্ছে। আমাদের অপরাধ বোধহয় আমরা বাঙালি। স্বামীর সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারছি না। আমাদের খাওয়াদাওয়া প্রায় বন্ধ।’এ নিয়ে কদম্বগাছি অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি নিজামুল কবির বলেন, ‘বাঙালিদের প্রতি চিরকাল আক্রোশ রয়েছে বিজেপির। আমরা প্রশাসনের কথা বলে ওঁদের দ্রুত বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করছি।’
এদিকে, ওড়িশায় বাংলা ভাষায় কথা বলে হেনস্তার শিকার রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা। অবিলম্বে এঁদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করার আর্জি জানিয়ে ওড়িশার মুখ্যসচিব মনোজ আহুজাকে চিঠি লিখেছেন বাংলার মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। আগেও বাংলা থেকে ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়া শ্রমিকদের চূড়ান্ত হেনস্তা করা হয়েছে বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে। এই অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে তিনটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করতে চলেছেন ‘আক্রান্ত’ সেই শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার ওই শ্রমিকদের ডাকা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদে। সেখানে পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক হয় তাঁদের। বৈঠকে পর্ষদের চেয়ারম্যান তাঁদের সবরকম আইনি সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।