নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সৌদি যাওয়ার পথে মুম্বই বিমানবন্দরে বুধবার ধরা পড়া বাংলাদেশি নাগরিক আখতারুজ্জামান আমনুল্লার ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ থেকেই। ওই নথির ভিত্তিতে কলকাতা থেকেই ইস্যু হয়েছিল ভারতীয় পাসপোর্ট। কলকাতার রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিসের (আরপিও) তরফে এই তথ্য মুম্বই পুলিসকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার যে ঠিকানায় আখতারুজ্জামানের আধার ও পাসপোর্ট তৈরি হয়েছিল, তার অস্তিত্ব আদৌ আছে কি না, জানতে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে মুম্বই পুলিস যোগাযোগ করেছে বলে খবর।
ভুয়ো নথির ভিত্তিতে এ রাজ্য থেকে যে পাসপোর্টগুলি ইস্যু করা হয়েছিল, তার তালিকা কলকাতা আরপিও তৈরি করেছে। সেটি দেশের সমস্ত বিমানবন্দরে ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিসের কাছেও ওই পাসপোর্টের নম্বরসহ তালিকা পৌঁছেছে। বুধবার মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আখতারুজ্জামান নামে একজনকে আটক করা হয়। পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে ভুয়ো নথি দিয়ে তার ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে। পাসপোর্টের নম্বরও ছিল অভিবাসন দপ্তরের কাছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ২০০৬ সালে আখতারুজ্জামান বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকেছিল। গত ১৯ বছর ধরে সে পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে। মাঝে অল্প কিছুদিনের জন্য দুবাইতে গিয়েছিল কাজ করতে।
উত্তর ২৪ পরগনায় থাকার সময়ে এক দালালের মাধ্যমে জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি করিয়েছিল আখতারুজ্জামান। সেই নথির ভিত্তিতে আসল ভোটার কার্ড বানায়। এখানেই ছোটখাট কাজকর্ম করছিল। একইসঙ্গে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের সীমান্ত পার করানোর কাজও শুরু করে। সেখান থেকে ভালো টাকা রোজগার করছিল। এমনকী দালালের কাছে নিয়ে গিয়ে ভুয়ো নথি তৈরি করিয়ে দিত। তার বিনিময়ে কমিশন পেত। এহেন তথ্য মেলার পরই ছত্রপতি শিবাজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভিবাসন দপ্তর তাকে মুম্বই পুলিসের কাছে হস্তান্তর করে।
আখতারুজ্জামানকে জেরায় পুলিসকে জানিয়েছে, উত্তরের পরে সে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এসে থাকতে শুরু করেছিল। উত্তরের মতো দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও সে আধার কার্ড তৈরি করায়। তৈরি হয় প্যান কার্ডও। এসব নথির ভিত্তিতেই ২০১৫’তে কলকাতা থেকে পাসপোর্টও তৈরি করেছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, ২০১৮ সালে ওই পাসপোর্ট সে হারিয়ে ফেলে। উত্তর ২৪ পরগনার স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ করে। ডায়েরির কপি দেখিয়ে নতুন আরও একটি পাসপোর্ট বানিয়ে ফেলে। এই পাসপোর্ট নিয়েই সে বাংলাদেশ ও দুবাইতে গিয়েছে বেশ কয়েকবার। জাল নথি দিয়ে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তার নামও এই তালিকায় ঢুকে পড়ে। যে কারণেই সে দুবাইতে পালাচ্ছিল বলে পুলিসকে জানিয়েছে।