Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মৃত ব্যক্তির ফর্মে নিজের ছবি সেঁটে এসআইআর  উতরে যাওয়ার চেষ্টা, ডানকুনিতে ধৃত বাংলাদেশি

১৫ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে এদেশে চলে এসেছিল নাদিম শেখ। বাসা বেঁধেছিল হুগলির ডানকুনিতে। এরপর লোকজন ধরে, খরচপাতি করে বানিয়েও ফেলেছিল ‘বৈধ’ কাগজপত্র।

মৃত ব্যক্তির ফর্মে নিজের ছবি সেঁটে এসআইআর  উতরে যাওয়ার চেষ্টা, ডানকুনিতে ধৃত বাংলাদেশি
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ১৫ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে এদেশে চলে এসেছিল নাদিম শেখ। বাসা বেঁধেছিল হুগলির ডানকুনিতে। এরপর লোকজন ধরে, খরচপাতি করে বানিয়েও ফেলেছিল ‘বৈধ’ কাগজপত্র। ভেবেছিল, আর চিন্তা নেই। কিন্তু তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে এসআইআর চালু হতেই। এই গেরো টপকানো যাবে কীভাবে, ভাবনাচিন্তা করতে থাকে নাদিম। উপায়ও একটা খুঁজে পায়। তার বসত এলাকার মৃত এক যুবকের নামে আসা ইনিউমারেশন ফর্ম কায়দা করে জোগাড় করে সে। সেখানেই সেঁটে দেয় নিজের ছবি। ফর্ম পূরণ করে জমাও দেয়। ভেবেছিল, এভাবেই হাতের মুঠোয় আসবে ভারতীয় নাগরিকত্ব। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। তার এই কীর্তিকলাপ প্রথমে নজরে আসে এলাকার মানুষের। চাপে পড়ে নিজের কুকীর্তির কথা স্বীকার করে নাদিম। তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায় ডানকুনি এলাকায়।

Advertisement

বাংলাদেশের নাগরিক নাদিম শেখ জেরায় জানায়, ২০১৮ সালে সে সাড়ে চার হাজার টাকা দিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে ধরে আধার সহ নানা নথি তৈরি করেছিল। যখন এসআইআর শুরু হয়, তখন সে এলাকারই মহসিন খান নামে এক মৃত যুবকের ফর্ম জোগাড় করে এবং নিজেকে মহসিন হিসেবে তুলে ধরে, নিজের ছবি সেখানে সেঁটে জমা দেয়। এদিকে, মৃত মহসিন খানের পরিবারের কাছে কোনওভাবে খবর যায়, তাঁর নামে জমা পড়েছে ফর্ম। মহসিনের দাদা মইদুল খান বলেন, আমরা নানা সূত্রে জানতে পারি, আমার ভাইয়ের নামে নাকি ফর্ম পূরণ হয়েছে। ভাই মারা গিয়েছে ২০১৫ সালে। আমরা খোঁজখবর নিতে শুরু করি, কীভাবে তা সম্ভব হল। তখন নাদিমের এই মারাত্মক কীর্তির কথা জানতে পারি আমরা। তবে আশার কথা, পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। 
জেরায় নাদিম স্বীকার করেছে, সে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে তুলে ধরতে এই কাজ করেছিল। নিজেকে অসুস্থ বলে দাবি করে সে জানায়, ২০১৮ সালে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে ভুয়ো নথি তৈরি করেছিল। তবে পুলিশ গোটা বিষয়টিতে অনেক ফাঁকফোকর দেখতে পাচ্ছে। কার মাধ্যমে এর আগে ভুয়ো নথি তৈরি হয়েছিল, কীভাবে মৃত ব্যক্তির ইনিউমারেশন ফর্ম নাদিমের কাছে গেল, সেসবের তদন্ত শুরু করেছে তারা। এদিকে, গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহল তো বটেই, রাজনৈতিকভাবেও জলঘোলা শুরু হয়েছে। যে স্থানীয় ব্যক্তির থেকে নথি তৈরি করেছিল নাদিম, সে তৃণমূলের ছত্রছায়ায় রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। তবে সেসব আমল দিতে নারাজ শাসকদল। ডানকুনি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা বলেন, নাদিম অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছে। পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরা তার উপযুক্ত শাস্তি চাই। আইন আইনের পথে চলবে। তবে আমাদের দলকে জড়িয়ে যেভাবে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চলছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। তৃণমূল এ ধরনের অন্যায়কে কখনও প্রশ্রয় দেয় না। 

সম্পর্কিত সংবাদ