বিশেষ সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: ঘরে তুমুল ভারত বিরোধিতা। অথচ বিভিন্ন পণ্যের জন্য ভরসা সেই ভারতই। এবার জ্বালানির চাহিদা মেটাতেও নয়াদিল্লির দ্বারস্থ হল মহম্মদ ইউনুসের বাংলাদেশ। ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল কিনতে চলেছে তারা। আর এজন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে স্বাক্ষরিত সমঝোতার উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে ইউনুস সরকারকে।
হাসিনা পরবর্তী পর্বে দু’দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন ও ভারত-বিদ্বেষ বাড়ছে মহম্মদ ইউনুসের বাংলাদেশে। ভারতেও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও। কিন্তু এরপরও নয়াদিল্লিরই দ্বারস্থ হল বাংলাদেশ। জানা গিয়েছে, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত অয়েল ইন্ডিয়ার অধীনস্ত সংস্থা নুমালিগড় শোধনাগার লিমিটেড (এনআরএল) থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করবে বাংলাদেশ। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এই জ্বালানি কিনবে ঢাকা। সবমিলিয়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা (ভারতীয় ১ হাজার ৭৬ কোটি টাকা) মূল্যের ডিজেল কিনবে বাংলাদেশ। তবে এর চূড়ান্ত ব্যয় আন্তর্জাতিক তেলের দামের ওঠানামার সঙ্গে পরিবর্তিত হবে। সম্প্রতি ঢাকার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত পরামর্শদাতা কমিটির বৈঠকে ভারত থেকে ডিজেল আমদানির প্রস্তাবে ছাড়পত্র মিলেছে। বৈঠকের সভাপতি অন্তর্বর্তী সরকারের আর্থিক পরামর্শদাতা সালেহউদ্দিন আহমেদ। বৈঠক শেষে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, আগের সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় এই ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, অসমের এনআরএলের শোধনাগার থেকে ডিজেল প্রথমে শিলিগুড়িতে তাদের নিজেদের বিপণন টার্মিনালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে তা বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। এই পাইপলাইনটি নয়াদিল্লির আর্থিক সহায়তায় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কার্যকর হয়েছিল। এর আগে ট্রেনে করে ডিজেল পরিবহণ করা হত।