Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে মন খারাপ মুক্তিযোদ্ধা শক্তিকুমারের

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে মন খারাপ মুক্তিযোদ্ধা শক্তিকুমারের
  • ২৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: মন খারাপ সাগরপাড়ার কাজিপাড়ার শক্তিকুমার মণ্ডলের। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। আজ ২৬ মার্চ। ১৯৭১ সালে এই দিনটিতেই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। পরবর্তীকালে এই দিনটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। গত জুলাইয়ে ওপার বাংলায় গণ অভ্যুত্থানের পর সে দেশে শুরু হয়েছে চরম ভারত বিরোধিতা। তাই মন খারাপ শক্তিকুমারের। তাঁর প্রশ্ন, মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান কি ভুলিয়ে দিতে চাইছে ওপার বাংলার একাংশ? উত্তর না পেলেও তাঁর অগাধ বিশ্বাস দু’ পারের বাঙালির ওপর। তাই পর মুহূর্তেই বলে উঠলেন, যতই শাসকরা চেষ্টা করুক না কেন, বাংলাদেশের আপামর জনগণের মন থেকে ভারতের প্রতি ভালোবাসা তাঁরা মুছতে পারবে না।

Advertisement

আজ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দিনভর ওপার বাংলায় পালিত হবে স্বাধীনতা দিবস। স্মরণ করা হবে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয়দের অবদানের কথা আদৌ স্বীকার করা হবে কি না তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। শরীরে বার্ধক্য দেখা দিলেও মনে অসম্ভব জোর শক্তিকুমারের। সত্তরের দশকে ক্লাস নাইনে পড়াকালীনই অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের যুদ্ধে। ওপার বাংলার মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এপারের সরকারি আধিকারিকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশপাশি যুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার মতো কাজে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এমনকী নিজের বাড়িতে থাকতে দিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন রশিদ থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ওপার বাংলার একাধিক তাবড় অফিসারকে। তাঁদের খুঁজে দেওয়া কাজিপাড়ার একটি আমবাগানেই ভারত সরকারের সহায়তায় তৈরি হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যান্টনমেন্ট। সেখানে একসঙ্গে তিন হাজার মুক্তিযোদ্ধার থাকা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ ছিল। শুধুই কি তাই, ওই সময়ের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে শক্তিবাবু জানালেন, ওপার বাংলায় গিয়ে কীভাবে পাকিস্তানি সেনার ব্যবহৃত বিভিন্ন বন্দুক, মেশিনারি সম্বন্ধে তথ্য জোগাড় করে ভারতীয় জওয়ান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সরাবরহ করতেন তিনি। একটি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানালেন, টেলিফোনের লাইন কেটে দিয়ে কীভাবে তিনি মাটিতে লুকিয়ে রাখা মাইনের সঙ্গে জুড়ে দিতেন। যাতে করে পাকিস্তানি সেনারা ওই লাইন মেরামতি করতে গেলেই মাইন ফেটে মারা যায়। এভাবেই মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় ন’ মাস পর স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ।
স্বাধীনতা ঘোষণার দিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে শক্তিবাবু বলছিলেন, যেদিন বাংলাদেশ স্বাধীন ঘোষণা হল সেদিন গোটা শরীর কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল একটা ঘোরের মধ্যে আছি। স্বাধীন হওয়ার ঘোষণা শুনে এত আনন্দিত হয়েছিলাম যে খুশিতে একের পর এক শূন্যে গুলি চালিয়েছিলাম। এরপরে যুদ্ধ শেষে আমাদের বাংলাদেশের মানুষ এত ভালোবাসা দিয়েছিল তা বলে বোঝাতে পারব না। দু’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান শাসক ও মুষ্টিমেয় কয়েকজন প্রতি মুহূর্তে ভারতকে অপমান করছে। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ভুলিয়ে দিতে চাইছে। তবে শত চেষ্টা করলেও তা পারবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখনও আমাদের ভীষণ ভালোবাসেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ