


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে বীরভূমের দুই মহিলা সহ ছয় বঙ্গভাষী ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করে গত ২৬ জুন বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করিয়েছিল দিল্লি পুলিস। পুশব্যাক হওয়া দুই মহিলার মধ্যে একজন আসন্নপ্রসবা। সেই ছ’জনকে শুক্রবার বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের জেলা ও দায়রা আদালত সে দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যাঁদের অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে ভারত থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, বাংলাদেশ পুলিস কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক সংক্রান্ত ১৯৪৬ সালের আইনের ১৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছে। অর্থাৎ বীরভূমের ওই ছয় বঙ্গভাষী বাংলাদেশে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করেছেন, তাঁরা বাংলাদেশি নন।
বুধবার সন্ধ্যায় চাঁপাই নবাবগঞ্জ শহরের আলিনগরের ভুতপুকুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে ওই ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় সদর মডেল থানার পুলিস। সেই থানার ওসি মহম্মদ মতিউর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ধৃতরা দিল্লিতে ইটভাটায় কাজ করত। তাদের কাছ থেকে ভারতীয় নথিপত্র মিলেছে। এরা বীরভূম জেলার বাসিন্দা। বাংলাদেশি সন্দেহে গত জুন মাসে অসমের ধুবড়ি দিয়ে দিল্লি পুলিস তাদের কুড়িগ্রামে পুশব্যাক করিয়েছিল। তারপর তারা ঢাকায় চলে যায়। সেখান থেকে ফিরে গত একমাসের কিছু বেশি সময় ধরে এরা চাঁপাই নবাবগঞ্জ শহরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখান থেকেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মতিউর সাহেব জানিয়েছেন, ধৃতরা হল, বীরভূমের পাইকরের মহম্মদ দানেশ, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনালি বেগম ও তাদের ৮ বছরের ছেলে সাব্বির। এছাড়াও গ্রেপ্তার করা হয়েছে মুরারই থানা এলাকার বাসিন্দা সুইটি বিবি এবং তার দুই ছেলে কুরবান দেওয়ান ও ইমান দেওয়ানকে। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই ছ’জনের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন। তবে বেআইনি অনুপ্রবেশের দায়ে আদালত তাদের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে। সেই আইনি প্রক্রিয়া শেষেই পরবর্তী পদক্ষেপ হবে।
বীরভূমের ছয় বঙ্গভাষীর বাংলাদেশে জেল হেফাজতের খবর পেয়েছেন রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার সদস্য সামিরুল ইসলাম। তাঁর কথায়, যে ভারতীয় বঙ্গভাষীদের অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে ওপারে ঠেলে পাঠানো হল, তাঁদের কিন্তু বাংলাদেশ পুলিস অবৈধ বিদেশি নাগরিক সংক্রান্ত ধারাতেই গ্রেপ্তার করেছে। বাংলাদেশি হলে এই ধারা যে প্রয়োগ হতো না, সেটা সবাই বোঝে। বীরভূমের এই ছ’জনের বিষয়ে আমরা অবগত। তাঁদের পাশে আছি। খুব দ্রুত তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।