Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বালি কেদারনাথ আরোগ্য ভবন ভেঙে গড়া হবে মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল

শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রসূতি ও নবজাতকদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে যে হাসপাতাল ছিল বালির গর্ব, সেই বালি কেদারনাথ আরোগ্য ভবন এবার নতুন রূপে ফিরতে চলেছে।

বালি কেদারনাথ আরোগ্য ভবন ভেঙে গড়া হবে মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রসূতি ও নবজাতকদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে যে হাসপাতাল ছিল বালির গর্ব, সেই বালি কেদারনাথ আরোগ্য ভবন এবার নতুন রূপে ফিরতে চলেছে। দীর্ঘ আট বছর বন্ধ থাকার পর জরাজীর্ণ তিনতলা ভবন ভেঙে সেখানে গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল। প্রায় দেড় বিঘা জমির উপর এই হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা করেছে বালি পুরসভা। খুব শীঘ্রই পুরানো ভবন ভাঙার কাজ শুরু হতে চলেছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।

Advertisement

১৮৮৬ সাল নাগাদ বালির জিটি রোডের ধারে এই ঐতিহ্যবাহী হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীকালে হাসপাতালের পরিচালনভার গ্রহণ করে বালি পুরসভা। প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসার জন্য শুধু বালির বাসিন্দারাই নন, উত্তর হাওড়া, ডোমজুড়, ডানকুনি সহ রামচন্দ্রপুর ও উত্তরপাড়ার একাংশের মানুষও এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ৪০ শয্যার ইনডোর বিভাগ এবং নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা ছিল এই হাসপাতালের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে হাসপাতাল ভবনের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ে। পলেস্তরা খসে পড়া, ছাদ চুঁইয়ে জল পড়া, দেওয়ালে ফাটল— এমন নানা সমস্যায় পরিষেবা চালানোই কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে। ২০১৮ সালে শিবপুর আইআইইএসটি’র বিশেষজ্ঞ দল ভবন সমীক্ষা করে হাসপাতালটিকে বিপজ্জনক ঘোষণা করে। ওই বছরই বন্ধ করে দেওয়া হয় শতাব্দী প্রাচীন এই হাসপাতালটি।
জানা গিয়েছে, পরবর্তীকালে নতুন হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও জমি চিহ্নিতকরণ ও প্রশাসনিক জটিলতায় বিষয়টি এতদিন আটকে ছিল। বালির বিধায়ক তথা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায় রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জানান। এরপর গত বছরের জুন মাসে জরাজীর্ণ ভবন ভাঙার ছাড়পত্র মেলে। ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘শীঘ্রই ভাঙার কাজ শুরু হবে। এরপর পুরো জমিতে আরও বড় আকারের অত্যাধুনিক মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শহরতলির কয়েক লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন।’ পুরসভা জানিয়েছে, পুরানো ভবনে থাকা ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সামগ্রী ভাঙার আগেই সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পুরসভার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নাগরিকরা। প্রবীণ বাসিন্দা রমেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এই হাসপাতালের সঙ্গে বালির বহু মানুষের স্মৃতি জড়িয়ে। আবার নতুন করে এখানে হাসপাতাল তৈরি হলে বড়ো স্বস্তি এলাকাবাসীর।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ