


হায়দরাবাদ: চারদিকে ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ঝলকানি, সৌন্দর্য্যের চুলচেরা বিচার। খেতাব জিততে পারলে প্রচারের আলো এবং বিশ্বের সেরা সুন্দরীর সম্মান প্রাপ্তি। ৭৪ বছর পরেও তাই মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা নিয়ে আলোচনা কম নয়। কিন্তু হঠাত্ই ছন্দপতন! প্রদীপের নীচে লুকিয়ে থাকা ঘন অন্ধকার যেন হঠাত্ই প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আর সেই অন্ধকার দিক নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন অন্যতম প্রতিযোগীই। এবারের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার আয়োজন হচ্ছে হায়দরাবাদে। বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে ব্রিটেনের প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলেন ২০২৪ সালে ‘মিস ইংল্যান্ড’ জয়ী মিলা ম্যাগিও। কিন্তু হঠাত্ই তিনি ভারত ছেড়েছেন, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম। প্রাথমিকভাবে আয়োজকরা দাবি করেছিলেন, ব্যক্তিগত কারণে দেশে ফিরে গিয়েছেন ম্যাগি। কিন্তু সেই দাবিতে জল ঢেলে দেন স্বয়ং ব্রিটিশ সুন্দরী। তিনি অভিযোগ করেন, সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতার আড়ালে কার্যত প্রতিযোগীদের শোষণ করা হচ্ছে। এরপরই কার্যত বোমা ফাটিয়েছেন মিস ইংল্যান্ড। বলেছেন, ‘একটি বাঁদরকে যেভাবে নাচানো হয়, ঠিক সেভাবেই প্রতিযোগীরা পারফর্ম করতে বাধ্য থাকেন।’ একইসঙ্গে তাঁর দাবি, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিযোগিতার ধনী পুরুষ পৃষ্ঠপোষকদের মনোরঞ্জন করতে হতো। ডিনার টেবলে মধ্যবয়সি পুরুষরা বসে থাকতেন। প্রতি ছ’জন অতিথির জন্য দু’জন করে প্রতিযোগীকে থাকতে হতো। তাঁরা সামাজিক কোনও বিষয়ে আলোচনা করতে চাইতেন না। নিজেকে যৌনকর্মী বলে মনে হচ্ছিল।’ তিনি জানান, কারও ‘এন্টারটেইনমেন্টে’র পাত্রী হতে আসিনি। প্রতিযোগিতার যে উদ্দেশ্য, তা এখন অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। তাই তিনি নাম তুলে নিয়েছেন। যদিও আয়োজকদের প্রধান জুলিয়া মোর্লে জানিয়েছেন, ম্যাগি যে দাবি করছেন, তা ভুয়ো ও মানহানিকর। দাবির স্বপক্ষে বেশ কিছু প্রমাণও দিয়েছেন আয়োজকরা। ইতিমধ্যে অবশ্য তেলেঙ্গানা সরকারও এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
১০ মে শুরু হয়েছিল মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা। চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। এই প্রতিযোগিতায় ভর করে হায়দরাবাদকে বিশ্বের অন্যতম সাংস্কৃতিক পীঠস্থান হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা ছিল তেলেঙ্গানা সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিও এ নিয়ে উদ্যোগী হয়েছিলেন। ১৪০টি দেশে থেকে আসা প্রতিযোগীদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। তৈরি হয়েছে নতুন স্লোগান, ‘তেলেঙ্গানা জরুর আনা।’ কিন্তু ম্যাগির বিস্ফোরক অভিযোগের পর সেই সব কিছুই পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে। তবে তদন্তকারী কমিটির প্রধান জনৈক আইএএস অফিসার জানিয়েছেন, মিস ওয়েলসের সঙ্গে একই টেবলে বসেছিলেন ম্যাগি। স্ত্রী ও পুত্রবধূর সঙ্গে তাঁদের সঙ্গ দিচ্ছিলেন এক আইএএস অফিসার। মিস ওয়েলস তো এমন কোনও অভিযোগ জানাননি!
ইংল্যান্ডের সমুদ্র তীরবর্তী শহর নিউকুয়ের বাসিন্দা মিলা ম্যাগির কেরিয়ার বেশ আকর্ষণীয়। পেশায় তিনি লাইফগার্ড ও সিপিআর অ্যাডভোকেট। মূলত তাঁর উদ্যোগেই মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতা থেকে ‘বিকিনি রাউন্ড’ বাদ দিয়ে ‘সিপিআর কুইন চ্যালেঞ্জ’ বলে নতুন একটি রাউন্ড চালু করা হয়। প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রাণরক্ষার কৌশল জনপ্রিয় করে তোলাটাই ছিল মূল ভাবনা। ম্যাগির বদলে মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতার রানার আপ শার্লট গ্র্যান্ট অংশ নিচ্ছেন মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায়। ইতিমধ্যে ভারতে এসেও পৌঁছেছেন তিনি।