নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: প্রেমিকা ঈশিতা মল্লিককে খুনের পর হাওড়া থেকে ট্রেনে চেপে প্রথমে বরাকর, এরপর সেখান থেকে আসানসোল হয়ে উত্তরপ্রদেশ পালিয়েছে অভিযুক্ত দেশরাজ সিং। পুলিস জেনেছে, সেখানকার দেওরিয়াতে দুই ‘বাহুবলী’ আত্মীয়র আশ্রয়ে রয়েছে সে। উত্তরপ্রদেশে ঢোকার আগে আসানসোল সংলগ্ন বরাকর স্টেশনের কাছে একটি শৌচালয়ে মোবাইল ফোনটি ‘ফ্লাইট মোডে’ রেখে দিয়ে বেরিয়ে যায়। সেই মোবাইল ফোনটি লছিপুর এলাকার এক শ্রমিকর কাছ থেকে পুলিস উদ্ধার করেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, নতুন সিম ও মোবাইল ব্যবহার করছে পলাতক দেশরাজ। সেই ফোন ট্র্যাক করেই জানা গিয়েছে, দেওরিয়া এলাকায় গা-ঢাকা দিয়ে মা এবং পরিবারের অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে দেশরাজ। দেওরিয়ার মাইলস থানার সহযোগিতায় তার খোঁজে সেখানে তল্লাশি চালাচ্ছেন কৃষ্ণনগরের তদন্তকারীরা। দু’বার অভিযান চালালেও, এখনও ধরা পড়েনি দেশরাজ।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, ‘অভিযুক্তের খোঁজে আমরা তল্লাশি চালাচ্ছি। বরাকর স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে দেশরাজের একটি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। স্থানীয় থানার সহযোগিতায় আমরা অভিযান চালাচ্ছি।’ পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ আগস্ট দেশরাজের মা দেউড়িয়া চলে যান। তার বোন উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির কোচিং নিচ্ছে। বিগত দু সপ্তাহ ধরে কাঁচরাপাড়ায় একাই ছিল দেশরাজ। ঈশিতাকে খুনের আগে মোবাইল থেকে সিম খুলে রাখে। গত ২৪ আগস্ট ফোনে নতুন সিম লাগায়। ২৫ আগস্ট সোমবার দুপুরে ঈশিতাকে খুন করার পর সে সরাসরি হাওড়া স্টেশন চলে যায়। সেখান থেকে সন্ধ্যা বেলা দুন এক্সপ্রেস করে আসানসোল হয়ে বরাকর যায়। বরাকর স্টেশনের বাথরুমে সে মোবাইল ফোনটি ফ্লাইট মোডে ফেলে রেখে চলে যায়। ওই মোবাইল ফোনটি স্থানীয় এক শ্রমিক পায়। তারপর সে মোবাইলটি নিয়ে কুলটি থানার লছিপুর সংলগ্ন আলডি এলাকায় চলে যায়। পুলিস সেই মোবাইল ফোনটি ট্র্যাক করে লছিপুর ঢাল থেকে উদ্ধার করে। ওই রাতেই বরাকর স্টেশন থেকে আসানসোল ফিরে আসে। আসানসোল থেকে রাত দেড়টা নাগাদ বাঘ এক্সপ্রেস ধরে দেওরিয়া গিয়েছে বলে পুলিস জানতে পেরেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, শুধুমাত্র ঈশিতার উপর নজর রাখতেই কৃষ্ণনগরের একটি কলেজে ডিসট্যান্স লার্নিংয়ে ভর্তি হয়েছিল কাঁচরাপাড়ার দেশরাজ। ঈশিতার যাবতীয় গতিবিধি এবং তাঁর বাড়ির বিষয়ে সম্যক জানা ছিল তার।
তদন্তকারীরা বলছেন, সোমবার ঈশিতা খুনের পর নতুন সিমটি দিয়ে দেশরাজ তার মা, কাঁচরাপাড়ার দুই বন্ধু এবং ভাই নীতিন প্রতাপ সিংহের সঙ্গে কথা বলে। নীতিন প্রতাপ সিং হল দেশরাজের কাকার ছেলে। ওই এলাকাতে দেশরাজ ও নীতিন অতীতে অপরাধমূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিল বলে পুলিস জানতে পেরেছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, দেশরাজের বাবা রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিংয়ের দুই জেঠতুতো ভাই রয়েছে। তাদের নাম যথাক্রমে দঙ্গল সিং এবং মঙ্গল সিং। যারা দেউরিয়া এলাকার ‘বাহুবলী’ হিসেবেই পরিচিত। সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে। পুলিসের অনুমান, দঙ্গল ও মঙ্গলের সহযোগিতাতেই দেশরাজ সেখানেই কোথাও গা ঢাকা দিয়েছে।