সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: নববর্ষ উপলক্ষ্যে সেজে উঠল শিল্পাঞ্চল। চৈত্র সেলে ব্যাপক কেনাকাটার পর আজ বাঙালির বর্ষবরণে মেতে উঠছে আসানসোল থেকে দুর্গাপুর, রানিগঞ্জ সর্বত্র। মন্দিরে মায়ের কাছে পুজো দিয়ে বছর শুরু করার রীতি চিরন্তন। ব্যবসায়ীরা এদিনই হাতখাতা করেন। সেই উপলক্ষ্যে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে মন্দিরগুলিতে। তপ্ত বৈশাখে ভক্তকূলকে স্বস্তি দিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষগুলি। আসানসোল তথা শিল্পাঞ্চলে অতি প্রসিদ্ধ মন্দির হল ঘাঘরবুড়ি মন্দির। নববর্ষ উপলক্ষ্যে আজ ভক্তদের ঢল নামবে এই মন্দিরে। দশকের পর দশক ধরে এই রীতি চলে আসছে।
জানা গিয়েছে, পয়লা বৈশাখ ভোর ৪টের সময় মন্দির খুলবে। সাড়ে ৪টে থেকে শুরু হবে মায়ের বিশেষ পুজো। ভোরে ভক্তরা এলেও দিনভর ভক্তদের আগমনের কথা মাথায় রেখে শরবতের ব্যবস্থা করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। মন্দিরের সেবাইত বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, অতি গরমেও ভক্তরা নববর্ষের প্রথম দিনে মন্দিরে আসবেনই। আমরা তাঁদের ঠান্ডা শরবত দিয়ে তেষ্টা মেটানোর চেষ্টা করব। নতুন বছরের প্রথম দিনে ভোর থেকে মা কল্যাণেশ্বরী মন্দির চত্বরে হাজির হন ভক্তরা। ভোর থেকে ভক্তদের লাইন চলতে থাকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত। ভক্তরা যাতে প্রখর রোদে কিছুটা স্বস্তি পান তার জন্য মাথার উপর শামিয়ানা টাঙানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান, মন্দিরের সেবাইত মিঠু মুখোপাধ্যায়। একইভাবে দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গি কালী মন্দিরে ভক্তরা ভিড় করেন। ভোর ৩টে থেকে ভক্তরা লাইন দেন। এদিন ৪টের সময়ে খুলে যাবে মন্দিরের দরজা। ব্যবসায়ীরা এখানে হালখাতার পুজো করাতেই ভিড় করেন। এক ব্যবসায়ী বলেন, বরাববই মায়ের কাছে পুজো দিয়ে নতুন বছর শুরু করি। সারা বছরটা যাতে ব্যবসা ভালো চলে সেই প্রার্থনা করি। আসানসোলের বাসিন্দা মৌসুমি মণ্ডল বলেন, মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে নতুন বছর শুরু করতে চাই।