Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাতিল নম্বরপ্লেট লাগিয়েই বি টি রোডে চলছে নিউটাউনের অটো! পুরানো মালিকের কাছে পুলিশ কেসের মেসেজ যেতে পর্দাফাঁস

নিউটাউনের অটোর নম্বর। সেই নম্বর বেশ কয়েক বছর আগে বাতিলও হয়ে গিয়েছে। নতুন অটো কিনে নতুন নম্বর পেয়ে গিয়েছেন চালক তথা মালিক।

বাতিল নম্বরপ্লেট লাগিয়েই বি টি রোডে চলছে নিউটাউনের অটো! পুরানো মালিকের কাছে পুলিশ কেসের মেসেজ যেতে পর্দাফাঁস
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নিউটাউনের অটোর নম্বর। সেই নম্বর বেশ কয়েক বছর আগে বাতিলও হয়ে গিয়েছে। নতুন অটো কিনে নতুন নম্বর পেয়ে গিয়েছেন চালক তথা মালিক। অথচ, সেই পুরনো নম্বরের অটোর সিগন্যাল ভাঙার কেস আসছে চালকের মোবাইলে! ফাঁপরে পড়ে সেই অটোচালক বারাকপুর কমিশনারেটের দারস্থ হতেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, ওই বাতিল নম্বরপ্লেট ব্যবহার করে বি টি রোডে রমরমিয়ে চলছে একটি অটো। সোমবার সোদপুর ট্রাফিক গার্ড সেই অটো বাজেয়াপ্ত করে নির্দিষ্ট ধারায় কেস করে। সূত্রের খবর, বারাকপুর কমিশনারেট এলাকায় এমন বহু বেআইনি অটো দাপট দেখাচ্ছে। খড়দহ থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

Advertisement

নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির বাসিন্দা নারায়ণ রায়। পেশায় অটোচালক। তাঁর পুরানো অটোর নম্বর ছিল ডব্লুবি ২৫ সি ২১৪৭। বেশ কয়েক বছর আগে অটোটি বাতিল হয়ে যায়। সেটি কাটাইও হয়ে গিয়েছে। তারপর নারায়ণবাবু নতুন অটো কেনেন। বারাসত জেলা পরিবহণ দপ্তর থেকে তিনি পুরানো নম্বরপ্লেট বদলে নতুন পেয়েছেন। নতুন নম্বর হল, ডব্লুবি ২৫এস ৮১৬১। নতুন অটো নিয়ে তিনি নির্দিষ্ট রুটে চালাচ্ছেন। গত ২ জানুয়ারি তাঁর ফোনে একটি মেসেজ আসে। যা দেখে কার্যত আকাশ থেকে পড়েন তিনি। তাঁর পুরনো অটোটি সোদপুর ট্রাফিক গার্ড এলাকায় সিগন্যাল ভেঙেছে! সেই মতো কেসও হয়েছে। জরিমানা দিতে হবে। ওই মেসেজ তিনি অন্যান্য অটোচালক থেকে শুরু করে ইউনিয়ন নেতাদের দেখান। তাঁদের পরামর্শে তিনি বারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি ট্রাফিক অম্লানকুসুম ঘোষের অফিসে গিয়ে অভিযোগ করেন। পুলিশকে জানান, ‘ওই অটো বহু বছর আগে কাটাই হয়ে গিয়েছে। নম্বর প্লেটও বাতিল হয়েছে। আমি নতুন অটো নিয়েছি। তাতে নতুন নম্বরপ্লেট লেগেছে। এখন কীভাবে পুরনো নম্বরের অটো রাস্তায় চলতে পারে?’ অভিযোগ পেয়ে সোদপুর ট্রাফিক গার্ড তদন্তে নামে।

সোমবার তদন্তকারী আধিকারিক নারায়ণবাবুর পুরানো নম্বরে চলা অটোটি আটক করে। বন্দিপুরের বাসিন্দা সঞ্জীব বারুই অটোটি চালাচ্ছিলেন। পুলিশ তাঁকে কাগজপত্র দেখাতে বলে। তিনি তা দেখাতে না পারায় অটো বাজেয়াপ্ত করে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়। তিনি বাতিল নম্বরের অটো কীভাবে পেলেন, তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। প্রসঙ্গত, গত ১৫ বছরে উত্তর শহরতলিতে অটোর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। তার একটা বড় অংশ এভাবেই বাতিল নম্বরপ্লেট বা ভুয়ো নম্বর লাগিয়ে রাস্তায় চলছে। আরও অভিযোগ, এর পিছনে একটি বড়োসড়ো চক্র রয়েছে, যারা ভুয়ো নম্বরপ্লেট লাগানো অটো বিক্রি করছে। ডিসি (ট্রাফিক) অম্লানকুসুম ঘোষ অবশ্য জানিয়েছেন, বেআইনি অটোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ