নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ‘আমার কাছে ২০ একর জমি আছে। চলুন দু’জনে মিলে ডেভেলপের কাজ করি...’। হোয়াটসঅ্যাপ কলে অচেনা কণ্ঠস্বরে এই প্রস্তাব পেয়ে আকাশ থেকে পড়েন কলকাতা পুরসভার ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ। উল্টোদিকের ব্যক্তি নিজেকে পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেন। বলেন, আমি পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলছি। এর ফাঁকেই কুশল বিনিময়ও করেন তিনি।
এই হোয়াটসঅ্যাপ কল পেয়ে হকচকিয়ে যান সুশান্তবাবু। তিনি বা তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে কোনওকালে কথাই হয়নি পানিহাটির চেয়ারম্যানের। সুশান্তবাবুর কথায়, তিনি সেভাবে চেনেনও না তাঁকে। অথচ সোমনাথবাবু কেন তাঁকে একসাথে ব্যবসা করার প্রলোভন দেবেন? এ নিয়ে খটকা লাগায় তিনি সরাসরি ফোন করেন বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিককে। যে নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কল এসেছিল, সেটিও জানান তাঁকে। দেখা যায়, ওই নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ ডিপিতে পানিহাটির পুর চেয়ারম্যান সোমনাথ দে’র ছবি রয়েছে। ট্রু কলারে নাম ভেসে উঠছে— চেয়ারম্যান, পানিহাটি মিউনিসিপ্যালিটি। ফলে ধন্দ আরও বাড়ে। পার্থ ভৌমিক সময় নষ্ট না করে ফোন করে বিষয়টি জানান সোমনাথ দে’কে। তিনিও এই ষড়যন্ত্রের কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন। তিনি শুক্রবার খড়দহ থানায় ওই ফোন নম্বর জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বলেছেন, আমার নাম ও ছবি ব্যবহার করে কেউ প্রতারণা করার চেষ্টা করছে। এমনটা যে হতে পারে, তা বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে। আমরা একটি ঘটনার কথা জানতে পেরেছি। ওই প্রতারক হয়তো আরও অনেককে এভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। পুলিস কমিশনারকেও বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। পুসিসের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।