Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১০ টাকা কম দেওয়ায় ‘জুলুম’ হাওড়া ব্রিজে, ভাইরাল ভিডিও, উত্তর বন্দর থানার এএসআই-কনস্টেবল সাসপেন্ড

পণ্যবাহী গাড়ি চোখে পড়লেই হল! সে মালবোঝাই হোক বা খালি—

১০ টাকা কম দেওয়ায় ‘জুলুম’ হাওড়া ব্রিজে, ভাইরাল ভিডিও, উত্তর বন্দর থানার এএসআই-কনস্টেবল সাসপেন্ড
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পণ্যবাহী গাড়ি চোখে পড়লেই হল! সে মালবোঝাই হোক বা খালি— হাওড়া ব্রিজে নিত্যরাতে পুলিসি জুলুমের শিকার হন চালকরা। এমনটাই অভিযোগ উঠেছে দুধ-সাদা উর্দিধারীদের বিরুদ্ধে। ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে হাত পেতে টাকা চাইতে কুণ্ঠাবোধ করেন না এই পুলিসকর্মীরা। এই ‘তোলাবাজি’র একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে লালবাজার। হাওড়া ব্রিজে প্রকাশ্যে পণ্যবাহী গাড়ি থেকে টাকা তোলার অভিযোগে এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনসপেক্টর ও এক কনস্টেবলকে অবশেষে সাসপেন্ড করল লালবাজার। তাঁদের নাম অরূপ কর্মকার (অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনসপেক্টর) ও রাজীব চট্টোপাধ্যায় (কনস্টেবল)। তাঁরা উত্তর বন্দর থানায় কর্মরত। লালবাজার জানিয়েছে, বেআইনিভাবে গাড়ি থেকে টাকা তোলার অভিযোগে ওই দুই পুলিস কর্মীকে সম্প্রতি ক্লোজ করে বিভাগীয় তদন্ত করা হয়। সেই তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ে কলকাতা পুলিসের যুগ্ম কমিশনার (সদর) মিরাজ খালিদের কাছে। এরপরই পুলিস কমিশনার মনোজকুমার ভার্মার নির্দেশে অভিযুক্ত দুই পুলিস কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। 

Advertisement

সূত্রের খবর, গত শুক্রবার হাওড়া ব্রিজের উপর নাকা চেক পয়েন্টে কর্মরত ছিলেন উত্তর বন্দর থানার ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর ও কনস্টেবল। অভিযোগ, নাকা চেকিংয়ের সময় একটি পণ্যবাহী গাড়ি থেকে ৫০ টাকা চাওয়া হয়। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। গাড়িচালকের বক্তব্য, ৫০ টাকার নোট নেই। কনস্টেবলের হাতে ৪০ টাকা গুঁজে দেন তিনি। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ১০ টাকা কম থাকায় বেজায় চটে যান ওই কনস্টেবল। বাকি ১০ টাকার জন্য জোরজুলুম করতে থাকেন তিনি। সেই সময় খালাসি মোবাইল ফোনে গোটা ঘটনাটি রেকর্ড করেন। দর কষাকষি চলাকালীন এগিয়ে আসেন কর্তব্যরত অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনসপেক্টর। তিনি ওই গাড়িকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন। 
কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক ব্যক্তি তাতে কলকাতা পুলিসকে ট্যাগ করেন নেট দুনিয়ায়। বিষয়টি চোখে পড়ে লালবাজারের কর্তাদের। শনিবারই এ নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। সদর দপ্তরে ডেকে পাঠানো হয় উত্তর বন্দর থানার ওই দুই পুলিসকর্মীকে। কেন বেআইনিভাবে টাকা তুলছিলেন, তা জিজ্ঞাসা করা হয় তাঁদের। কে তাঁদের টাকা তোলার নির্দেশ দিয়েছেন? তাও জিজ্ঞাসা করেন তদন্তকারীরা। এইসব প্রশ্নে নিরুত্তর ছিলেন তাঁরা। সোমবার পুলিস কমিশনারের নির্দেশে দু’জনকেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। সেই চিঠি ওই এএসআই ও কনস্টেবলের কাছে পৌঁছে গিয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে খবর। 
পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের বক্তব্য, প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ভোর ৩টে পর্যন্ত হাওড়া ব্রিজে পুলিসের জুলুম পোহাতে হয় তাঁদের। ছোট পণ্যবাহী গাড়ি থেকে ২০ টাকা, মাঝারি গাড়ি হলে ৫০ টাকা, আর বড় গাড়ির ক্ষেত্রে ১০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয় বলে অভিযোগ। নিত্যযাত্রীদের অভিজ্ঞতাও এক। তাঁরা প্রতিদিনই চোখের সামনে হাওড়া ব্রিজের উপর পণ্যবোঝাই গাড়ি থেকে হাত পেতে টাকা তুলতে দেখেন ট্রাফিক পুলিসের কর্মীদের। তাঁদের কথায়, চলন্ত গাড়ি থেকে টাকা ছুড়ে দেওয়া হলে ওই পুলিস কর্মীরা রীতিমতো কুড়োতে বসে যান। একদিন তো এক বেকারি গাড়ির চালক টাকা দিতে অস্বীকার করলে তর্কে না গিয়ে এক উর্দিধারী পাঁউরুটির একটি বড় প্যাকেট তুলে নেন গাড়ি থেকে। এ প্রসঙ্গে লালবাজার জানিয়েছে, যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনসপেক্টর ও কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অভিযোগ পেলে তা গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ