সুব্রত দেব: সকাল থেকে পূর্বাভাস ছিল, কিন্তু সন্ধেবেলায় তা যে এমন প্রবল আকার ধারণ করবে তা মনে হয় কেউই ভাবেনি। ঝড়ের দাপট আর প্রবল হাওয়ায় ঘর-বাড়ি ভেঙে পড়ার উপক্রম। সঙ্গে মুহুর্মুহু বজ্রপাত। ঘরের জানলা, দরজাগুলো দমাদ্দম আছড়ে পড়তে লাগল। প্রশান্তবাবু জোরে হাঁক দিলেন, ‘প্রলয়, বাবা বাইরের ঘরের জানলাগুলো বন্ধ করে দে তো।’
—দিচ্ছি বাবা।
জানলা বন্ধ করে ভেতরের ঘরে আসতেই লোডশেডিং। মুহূর্তে ঘরের ভিতরটা অন্ধকার হয়ে গেল। আর ঠিক তখনই বাইরের দরজায় বার বার কড়া নাড়ার শব্দ। প্রশান্তবাবু বললেন, ‘বাইরের দরজায় কেউ কি কড়া নাড়ছে?’
—হ্যাঁ, বাবা। কে যেন ডাকছে!
ঝড়ের শব্দের মাঝেই শোনা গেল কে যেন ডাকছে, ‘শুনছেন, বাড়িতে কেউ আছেন? একটু দরজাটা
খুলবেন। খুব বিপদে পড়েছি, একটু খুলুন না...।’
বারবার কড়াঘাত আর সঙ্গে করুণ আর্তি, ‘দয়া করে খুলুন না, একটু...।’
ঘরের ইনভারটারটাও বিগড়েছে বেশ কয়েকদিন। আরতি চার্জারটা জ্বেলে টেবিলে রাখতে রাখতে বলল, ‘বাইরে কে যেন একজন ডাকছে মনে হচ্ছে।’
—হ্যাঁ, অনেকক্ষণ ধরে ডেকে চলেছে, যা তো প্রলয় আলোটা নিয়ে। দরজাটা একটু খুলে দেখ তো।
‘বলছি, একে এই দুর্যোগের দিন, তায় লোডশেডিং— অন্ধকার। এই সময় অজানা অচেনা কাউকে দরজা খোলা কি ঠিক হবে?’ আরতির কণ্ঠে শঙ্কা প্রকাশ পায়।
প্রশান্তবাবু বলেন, ‘প্রলয়, তুই একটু দেখ। তোর মা অহেতুক ভয় পাচ্ছে! গলা শুনে তো ভদ্রঘরের ছেলে বলেই মনে হচ্ছে।’
প্রলয় বলল, ‘ঠিক আছে বাবা, দেখছি।’
আলোটা নিয়ে দরজাটা একটু ফাঁক করতেই আগন্তুক ঠেলে ঘরে ঢুকে পড়ল। আর ঠিক তখনই আলো জ্বলে উঠল। বিদ্যুতের আলোয় নজরে পড়ে যুবকটি একেবারে ভিজে গিয়েছে। মাথার চুল থেকে টপ টপ করে জল ঝরে পড়ছে। ছেলেটির হাতে একটা অ্যাটাচি ব্যাগ। প্রশান্তবাবু কিছু বলার আগে ছেলেটিই বলল, ‘মাফ করবেন, জোর করে ঠেলে ঢুকে পড়েছি বলে। উপায় ছিল না, বাইরে অন্ধকারে সমানে ভিজছিলাম।’
আরতি বলল, ‘ছেলেটাকে শিগগির একটা গামছা দাও, হাত, পা, মাথা ভালো করে মুছুক। আর প্রলয়, যা তোর এক সেট শুকনো জামা-কাপড় নিয়ে আয় তো।’
ছেলেটা গা হাত পা মুছে পোশাক পরিবর্তন করে এল।
তাকে বাইরের ঘরে বসানো হয়েছে। যে আরতি এতক্ষণ বলে আসছিল অপরিচিত কারও জন্য দরজা না খুলতে সে-ই আরতিই এখন কফি করে ছেলেটিকে দিতে যাচ্ছে! প্রশান্ত ইঙ্গিতে তাকাতেই আরতি বুঝতে পেরে বলে, ‘ছেলেটা খুব ভদ্র। আমার প্রলয়েরই বয়সি। একেবারে কাকভেজা হয়ে গিয়েছে, তাই একটু...।’
প্রশান্ত আরতির দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলে।
ঘরোয়া আলাপচারিতায় এটুকু জানা গিয়েছে যে, ছেলেটির গঙ্গা পার হয়ে ওপারে এক আত্মীয় বাড়ি যাওয়ার কথা। ট্রেন থেকে নেমে ঘাট হাঁটা পথ। কিন্তু হাঁটতে শুরু করার পরই বিপত্তি, প্রবল ঝড় আর মুষলধারে বৃষ্টি। সামনে এই বাড়িটা দেখে কী করবে ভেবে না পেয়ে একটু আশ্রয় চাওয়া।
—তা তুমি কোথা থেকে আসছ?
প্রশান্তবাবু কখন যে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, আরতি খেয়াল করেনি।
ছেলেটি একটু চুপ করে থেকে বলল, ‘অনেক দূর থেকে।’
—মানে!
প্রশান্তবাবু, বটানির অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর কণ্ঠে বিস্ময়।
ছেলেটি বলল, ‘আমি আসছি মেদিনীপুর থেকে। কলকাতায় একটা কাজ আছে কাল। আজ যাচ্ছিলাম সোদপুরে আমার এক পিসির বাড়ি।’
‘কেন?’ আরতির কণ্ঠে অকারণ উৎকণ্ঠা।
—পিসির শরীর ভালো যাচ্ছে না। খুব অসুস্থ। তাই বাবা
বললেন, কলকাতায় তো যাচ্ছিস, পারলে একবার
তোর বড় পিসিকে দেখে আসিস। আচ্ছা, ওপারে যাবার শেষ ফেরি ক’টায় বলতে পারেন?
—দশটায়, কেন? তুমি কি এই ঝড় জলের রাতে ওপারে যাবে? ফেরি বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
—না, ঝড়-জল একটু কমলে...।
প্রশান্তবাবু বলেন, ‘আজ আর কোথাও গিয়ে কাজ নেই, এখানেই রাতে দু’টি খেয়ে শুয়ে পড়। সকালে উঠে যেখানে খুশি যেও।’
সেই মতো ব্যবস্থা হল। সদর দরজা দিয়ে বাড়িতে ঢুকেই বাঁ দিকে দুটো ঘর। অতিথি বা বাইরের লোকের কথা ভেবেই করা। ডানদিকে আলাদা ব্লকে প্রশান্তবাবুদের থাকার জন্য তিনটে বেডরুম, কিচেন, ডাইনিং, বাথরুম ইত্যাদি। এককোণে ছোট ঠাকুর ঘর। হ্যাঁ, বাঁদিকে বাইরের লোকেদের ঘরের সঙ্গে লাগোয়া বাথরুম রয়েছে। ডানদিকের মূল ব্লকে ঢোকার জন্য আলাদা দরজা। দুটো ব্লকের মাঝে গলিপথ। সবটাই এক ছাদের তলায়।
....
ছেলেটিকে থাকার ব্যবস্থা করে প্রশান্ত আর আরতি বলল, ‘তুমি এখন একটু বিশ্রাম কর। সেই মেদিনীপুর থেকে আসছ! সেই কোন কালে বেরিয়েছ।’
ঘরে ফিরে আরতিকে প্রশান্তবাবু বললেন, ‘ছেলেটির মুখটা আমার বড় চেনা লাগল।’
—ও তুমি যাকে দেখ, তাকেই চেনা লাগে! আসলে
সারা জীবন ধরে এত ছাত্র পড়িয়েছ যে, যাকে দেখ
তার মুখই চেনা লাগে।
আরতির কথায় প্রশান্তবাবু হেসে ফেললেন।
—আরতি তোমার মনে আছে, আমার প্রথম পোস্টিং
মেদিনীপুরেরই ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজে হয়েছিল।
—তা আবার মনে নেই। সেই বন্ধুর বাড়িতে তোমার রাত কাটাবার অভিজ্ঞতা! যদিও ঝাড়গ্রাম তো এখন নতুন জেলা।
‘মা, রাত অনেক হয়েছে, খেতে দেবে না?’ প্রলয় এসে বলল।
—হ্যাঁ, দিই, এক কাজ কর, ছেলেটাকেও ডেকে আন।
একবারে দিয়ে দিই।
রাতে খেতে বসে সামনের দেওয়ালে একবার তাকাল দেবাশিস, মানে সেই আগন্তুক ছেলেটি।
তারপর জিজ্ঞেস করল, ‘ওই ছবিটা কোথায় তোলা?’
প্রশান্তবাবু বললেন, ‘ওটা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে রি-ইউনিয়নের সময় তোলা, কেন বলতো!’
—না, এমনি। ছবিতে ওপরের সারির বাঁ দিক থেকে তৃতীয়জন আপনি। তাই না?
—বাহ! ঠিক ধরেছ তো। আর পাশের জন?
—সবাই ক্লাসমেট।
খাওয়া শেষ হলে প্রশান্তবাবু বললেন, ‘যাও ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়। দরজা ছিটকানি লাগিয়ে শোবে। ওয়েদার ভালো থাকলে আমি ভোরে একটু প্রাতর্ভ্রমণে বেরব। তোমার নিশ্চয়ই অত সকালে কোনও কাজ নেই?’
—না।
....
ভোরের আলো তখনও সবুজ গাছে গাছে, পাখির কানে কানে ব্যস্ততার বার্তা পৌঁছে দেয়নি। চরাচর তখনও নিদ্রিত। এমনই কাকভোরে প্রশান্তবাবু বেরিয়ে পড়েছিলেন দৈনিক প্রাতর্ভ্রমণে। রাস্তা-ঘাটে গতকাল সন্ধ্যার ঝড়-জলের তাণ্ডবের চিহ্ন। এখন প্রকৃতি শান্ত। বেরবার সময় দেখেছে দেবাশিসের ঘরের দরজা বন্ধ। মানে ছেলেটা ঘুম থেকে ওঠেনি। আজকে রাস্তা বেশ ফাঁকা, সম্ভবত গতকালের ঝড় জলের কারণেই। একা হাঁটতে হাঁটতে ওঁর ছেলেটার কথা মনে পড়ছিল। মুখটা কেমন যেন চেনা চেনা! হঠাৎই বিদ্যুৎ চমকের মতো মাথায় কথাটা খেলে গেল— তাই তো!
আর দেরি না করে প্রশান্তবাবু দ্রুত বাড়ি ফেরার পথে পা এগলেন। ছেলেটাকে একবার জিজ্ঞেস করতেই হবে।
বাড়ি ফিরে সদর দরজার হুড়কো ঘুরিয়ে ভেতরে ঢুকে দুই অংশের মাঝের রাস্তা দিয়ে হেঁটে বাঁদিকে
ছেলেটার ঘরের দিকে তাকাতেই অবাক! ঘরের দরজা খোলা। প্রশান্তবাবু চট করে ঘরে ঢুকলেন। এদিক সেদিক তাকালেন। না, কোথাও নেই! তবে কি বাইরে হাঁটতে বেরিয়েছে? এই ভেবে প্রশান্তবাবু আবার বাইরে বেরলেন। এতক্ষণে চারদিক সকালের আলো ফুটে গিয়েছে। লোকজন বেরিয়ে পড়েছে। আশপাশে কোথাও ছেলেটাকে দেখতে পেলেন না।
ফিরে আসতেই আরতির গলা কানে আসে, ওরা দু’জন যে কোথায় গেল! এদিকে চা তো ঠান্ডা জল হয়ে গেল।
প্রশান্ত আসতেই আরতি বলে, ছেলেটা কোথায়?
—সে তো আমারও প্রশ্ন, ও পালিয়েছে।
—মানে! সকালবেলা মর্নিং ওয়াকের সময় হুড়কোটা খুলে বেরিয়েছিলাম, সেই ফাঁকেই...।
—বল কী! তা তুমি তালা দাওনি?
—না।
—চল তো দেখি ঘরে গিয়ে।
ঘরে গিয়ে দেখা গেল বিছানা টিপটপ করে গোছানো। মেঝেতে তাকাতেই এক কোণে ওর অ্যাটাচিটা নজরে পড়ল আরতির।
—এ কী! অ্যাটাচিটা তো ওই ছেলেটার।
—হ্যাঁ, তাই তো। তা হলে নিশ্চয়ই সামনে কোথাও গেছে, ফিরে আসবে। ও কী যেন বলছিল ওপারে ওর কে যেন থাকেন?
‘বড় পিসি,’ আরতি বলল।
—তা হলে ওখানেই মনে হয় গেছে।
‘কিছু নিয়ে টিয়ে যায়নি তো,’ ততক্ষণে প্রলয়ও চলে এসেছে।
আরতি বলল, ‘আমার ঠিক ভালো লাগছে না। এই জন্যই আমার প্রথম থেকে আপত্তি ছিল।’
কিন্তু প্রশান্তর কানে কোনও কথা ঢুকছে না। খালি মনের মধ্যে ছেলেটার মুখ ভেসে উঠছে। ঠিক যেন ওর বন্ধু স্নেহাশিস!
—কী হল কী বাবা?
কাঁধে হালকা ধাক্কা অনুভব করতেই সংবিৎ ফেরে প্রশান্তর।
—কখন থেকে ডাকছি! বলছি অ্যাটাচিটা নিয়ে কী
করা হবে?
প্রশান্তর কথা মতো এটাচি নিয়ে দু’পাশের লকে চাপ দিতেই সেটি খুলে গেল। আর খুলে যেতেই ভেতর দেখে সকলের
চোখ ছানাবড়া! এক সেট জামা প্যান্টের পাশে এক বান্ডিল একশো নোট!
আরতি বলল, ‘কী কাণ্ড গো! এত টাকা ফেলে ছেলেটা উবে গেল! জাল টাকা নয় তো?’
—কী জানি, দেখে তো ভদ্র ঘরের ছেলে বলেই মনে হয়েছিল।
আরতি বলল, ‘আমার কিন্তু ভালো ঠেকছে না। তুমি বরং পুলিসে খবর দাও।’
—দাঁড়াও তো, এত অস্থির হও না। এবেলাটা দেখি।
এমন যখন কথাবার্তা চলছে তখন প্রলয়ের চোখে পড়ল বিছানার পাশে টেবিলে রাখা একটা খাম। বাবার দিকে খামটা বাড়িয়ে দিল সে। হাতে নিয়ে প্রশান্তবাবু খামের মুখটি খুলে দেখেন ভিতরে একটি চিঠি। চিঠির ওপরে তাকাতেই সম্বোধন নজরে আসে—
প্রশান্ত পড়তে শুরু করলেন— ‘শ্রীচরণেষু কাকু,
আপনাদের না জানিয়ে চোরের মতো পালিয়ে আসতে হল, সে জন্য দুঃখিত। আসলে বাধ্য হলাম। বহুদিন আগের ঘটনা। আপনি মেদিনীপুরে আপনার এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং রাত্রিযাপন করেছিলেন। পরের দিন সকালে বেরবার সময় দেখলেন, ব্যাগে কলেজে চাকরির প্রথম মাইনের একটা টাকাও নেই! যে ব্যাগটি আপনি বন্ধুর কাছে রাখতে দিয়েছিলেন।’
আরতি আর প্রলয় উৎকর্ণ হয়ে শুনছে। প্রশান্তবাবু থামতেই ওরা বলে উঠল ‘কী হল? থামলে কেন?’
—না, পড়ছি।
প্রশান্তবাবু আবার শুরু করলে— ‘বন্ধু সেদিন টাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন। হয়তো বা বাধ্য হয়েছিলেন। স্ত্রী দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসা করাতে করাতে প্রাইমারি শিক্ষকটি তখন আক্ষরিক অর্থেই নিঃস্ব। ডাক্তার কেমোর ডেট দিয়েছেন, অথচ মানুষটি কপর্দকশূন্য। সেই সময় আপনাকে দেখে মানুষটির একটু আশা জেগেছিল, ভেবেছিলেন, আপনার প্রথম মাইনের টাকাতেই বউয়ের কেমো করাবে। ভেবেছিলেন, আপনার কাছ থেকে ভিক্ষা চাইবেন। অনেকবার চেষ্টা করেও আপনার কাছে তা তিনি চাইতে পারেননি। পারেননি স্ত্রীকেও বেশিদিন বাঁচাতে। এত বছর ধরে বিবেকের দংশনে তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘প্রশান্ত আমাকে অবিশ্বাস করল, জানিস দেবু। ওর ব্যাগ লক করা ছিল না সত্যি। ওতে যে ওর প্রথম মাসের মাইনে আছে তা আগেই বলেছিল। ও টাকা আমি নিইনি। হয়তো সেদিনের সেই ছোট ছেলের কাছে লজ্জায় বাবা মিথ্যা বলেছেন। তাই আজ এতদিন বাদে তার প্রায়শ্চিত্ত করলাম।
অনুগ্রহ করে টাকাটা গ্রহণ করে আপনার বন্ধুটিকে ক্ষমা করবেন। এই ঘটনার পরও আপনি ওখানকার কলেজে পাঁচ বছর ছিলেন। কিন্তু একদিনও আমাদের বাড়িতে আসেননি
বা যোগাযোগ করেননি। সম্ভবত বিশ্বাসহন্তা বন্ধুর প্রতি
ঘৃণায়। তারপর তো বদলি হয়ে চলে যান অন্য কলেজে।
অনেক কষ্টে আপনার ঠিকানা জোগাড় করেছি, শেষে খেতে বসে ডাইনিংয়ে ইউনিভার্সিটিতে তোলা আপনাদের গ্রুপ ফোটোয় আপনার পাশে আপনার বন্ধুর ছবি দেখে নিশ্চিন্ত হই যে, ঠিক বাড়িতেই এসেছি। যদিও ঝড়-জল আমার কাজকে সহজ করে দেয়। আর এতক্ষণে বুঝেই গিয়েছেন, আমি কে? আমিই আপনার সেই হতভাগ্য বন্ধুর একমাত্র সন্তান— দেবাশিস। আপনি ও কাকিমা আরও একবার আমার
প্রণাম নেবেন।’
চিঠি শেষ করে প্রশান্ত মনে মনে অস্থির হয়ে পড়লেন। আসলে সেদিন ভুলটা ওরই ছিল। ওই ঘটনার বেশ কয়েকদিন পর ব্যাগের মধ্যে রাখা একটা প্যান্টের চোরা পকেটে টাকাটা খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সে কথা বন্ধুকে জানাননি। এমনকী বাড়িতেও না। সেটা কি নিজের ভুল স্বীকারে লজ্জায়? নাকি বন্ধু যদি টাকা চেয়ে বসে তার মুমূর্ষু স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য? প্রশান্ত আর থাকতে পারলেন না। মুহূর্তে অ্যাটাচিটা হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। যে করেই হোক দেবাশিসের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে সব বলতেই হবে।
অঙ্কন: সুব্রত মাজী