নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কোন পরিবেশে, কোন পরিস্থিতিতে থাকতে পছন্দ করে কুমির? জল নাকি ডাঙা? যদি জলে থাকে, তাহলে তার উষ্ণতা কেমন হবে? এবার সুন্দরবনে কুমির শুমারি করতে গিয়ে তাদের ডেরার হদিশ করবেন বনবিভাগ ও সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের কর্মীরা। টাইগার রিজার্ভের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর জোন্স জাস্টিন বলেন, সুন্দরবনের ৪১০০ বর্গ কিমি এলাকাজুড়ে কুমির গণনার কাজ হবে। কোন পরিবেশ, পরিস্থিতি কুমিরের বেশি পছন্দ, তা তথ্য সহ রেকর্ড করবেন বিশেষজ্ঞরা। সুন্দরবনের বিভিন্ন জায়গায় স্থল ও জলের তাপমাত্রাও মাপা হবে। কোন তাপমাত্রায় কুমিরের দেখা মিলবে, আর কোন তাপমাত্রায় মিলবে না, তা তুলনা করে তাদের বাসস্থানকে চিহ্নিত করা হবে। এই তথ্য থেকেই জানা যাবে, সুন্দরবনের কোন কোন এলাকাকে তারা ডেরা হিসেবে গড়ে তুলেছে।
সুন্দরবনে ১১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে কুমির গণনার কাজ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনবিভাগ ও সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ যৌথভাবে এই শুমারি করবে। গতবারের মতো এবারও তিন ধাপে গণনার কাজ হবে। অর্থাৎ, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুই থেকে তিনদিন করে গণনা করা হবে। সেই সময় বনকর্মীরা নদীতে নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে শুমারি করবেন। সুষ্ঠুভাবে এই কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দিনে পর্যটকদের আনাগোনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই কাজের জন্য প্রায় দেড়শো বনকর্মীকে নিযুক্ত করা হবে। কীভাবে কুমির গুনবেন তাঁরা? জানা গিয়েছে, চোখে দেখার পাশাপাশি এলাকায় কুমিরের উপস্থিতি অনুভব করে এই সংখ্যা নির্ধারণ করবেন বনকর্মীরা। যে সব এলাকায় কুমিরের দেখা মিলবে, সেখানকার অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, জলের তাপমাত্রা, লবণের পরিমাণ— সবই রেকর্ড করা হবে। প্রসঙ্গত, ২০২৪-’২৫ সালে গণনার সময় দেখা গিয়েছিল, সুন্দরবনে কুমিরের সংখ্যা বেড়েছে। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের রিপোর্টে বলা হয়েছে, আনুমানিক ২২০-২৪২টি কুমির রয়েছে সুন্দরবনে। বনবিভাগ আশা করছে, এবার সেই সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে।