Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মদ্যপ অবস্থায় মহিলাদের কটূক্তি, গুলি-বোমাবাজিতে রণক্ষেত্র অশোকনগর, ধৃত ২

মহিলাদের কটূক্তি করাকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল অশোকনগর

মদ্যপ অবস্থায় মহিলাদের কটূক্তি, গুলি-বোমাবাজিতে রণক্ষেত্র অশোকনগর, ধৃত ২
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মহিলাদের কটূক্তি করাকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল অশোকনগর। দেদারে মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজি থেকে শুরু করে চলে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিও। এরপর স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় একটি ওয়ান শটার। গোটা ঘটনায় পুলিস উভয়পক্ষের দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি দুই অভিযুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সোমবার সকালেও থমথমে এলাকা। চলছে পুলিসি টহল।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগরের তালসা এলাকায় আনোয়ার মণ্ডল তৃণমূল নেতা বলে পরিচিত। রবিবার মধ্যরাতে অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় অশোকনগরের দিঘড়া উত্তরপাড়া গ্রামে ওই আনোয়ার মহিলাদের অকথ্য গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করায় আনোয়ারের হাতে আক্রান্ত হন এক মহিলা। এরপরই গ্রামের মহিলা ও যুবকরা একজোট হয়ে আনোয়ারকে মারধর করে এলাকাছাড়া করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে অশোকনগর থানার বিরাট পুলিস বাহিনী। তখনকার মতো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পুলিস চলে যায়। তার কিছুক্ষণ পরই ফের তেতে ওঠে গোটা এলাকা। অভিযোগ, সাঙ্গপাঙ্গদের সঙ্গে নিয়ে এসে এলাকায় তাণ্ডব চালাতে শুরু করে আনোয়ার। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ হোসেনের বাড়ির সামনে বোমাবাজি করে আনোয়ারের দলবল। মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজি হয়। এমনকী গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি চালায় বলেও অভিযোগ। গুলিবিদ্ধ হয় স্থানীয় যুবক সাগর মণ্ডল। তাকে বারাসত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বোমাবাজি ও গুলি চলার খবর পেয়েই গভীর রাতে ফের গ্রামে আসে অশোকনগর থানার পুলিস। দুষ্কৃতীদের খোঁজে  অভিযান শুরু করে তারা। তল্লাশি চালিয়ে এলাকার তৃণমূলের বুথ সভাপতি বলে পরিচিত সৈয়দ বসিরউদ্দিনের বাড়ি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিস। স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি, ওই ওয়ান শটার থেকেই গুলি চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আজমিরা বিবি বলেন, আনোয়ার মদ্যপ অবস্থায় মহিলাদের গালিগালাজ করছিল। প্রতিবাদ করায় সে আমার বউমাকে মারধর করে। এরপর খেপে গিয়ে গ্রামের মানুষ তাকে এলাকাছাড়া করে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, আনোয়ার এলাকায় বোমাবাজি করে, গুলি চালায়। তিন রাউন্ড গুলি চলেছে। এদিকে তৃণমূল বুথ সভাপতি সৈয়দ বসিরউদ্দিনের স্ত্রী তহমিনা বিবি বলেন, আসিফ নামে দলেরই এক আমাদের বাড়িতে এসে একটি আগ্নেয়াস্ত্র স্বামীকে দিয়ে যায়। পুলিস সেটি নিয়ে গিয়েছে। এ নিয়ে দিঘড়া-মালিকবেড়িয়া পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান রেজাউল হক বলেন, বসিরউদ্দিন তৃণমূলের বুথ সভাপতি নন। তবে, গোটা বিষয়টা ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে দলের কোনও কোনও সম্পর্ক নেই। বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া বলেন, হাঙ্গামায় জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুই অভিযুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ