নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: উত্তর সিকিমে ফের ভয়াবহ বিপর্যয়। এবার ধসের কবলে ভারতীয় সেনার ছাউনি। রবিবার রাতে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে লাচেন থেকে তিন কিমি দূরে ছাতেনে ওই ধস নামে। ধসে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৩ জওয়ানের। জখম চার সেনাকর্মী। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। নিখোঁজ আরও ৬ জওয়ান। বিশাল ধসের নীচে তাঁরা চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা। সেনার তরফে চলছে তল্লাশি অভিযান। যদিও সোমবার রাত পর্যন্ত নিখোঁজ ওই জওয়ানদের সন্ধান মেলেনি। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে রবিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ধস নামে। পাহাড় থেকে আছড়ে পড়ে বোল্ডারের সঙ্গে কাদামাটি। নিমেষে কার্যত মাটিতে মিশে যায় সেনা ছাউনির একাংশ। ধসের জেরে হাবিলদার লক্ষ্মীন্দর সিং, ল্যান্স নায়েক মুনিশ ঠাকুর ও পোর্টার অভিষেক লাখাদার মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে সেনাবাহিনীর তরফে। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং মৃত ও নিখোঁজ জওয়ানদের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জখমদের দ্রুত সুস্থতা কামনাও করেছেন তিনি। পাশাপাশি, পর্যটকদের প্রতি তাঁর অনুরোধ, বিপর্যয় চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্টে উত্তর সিকিমের বারদাং সেনা ছাউনির ২২ জন জওয়ান নিখোঁজ হন। উদ্ধার হয় ১৪ জনের মৃতদেহ।
ধসের জেরে গত কয়েকদিন ধরে সিকিমের বাকি অংশের সঙ্গে লাচেন এমনিতেই বিচ্ছিন্ন। সেখানে আটকে থাকা ১১৬ জন পর্যটককে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ধসের কারণে লাচেনের রাস্তা ও সেতু যেভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে, তাতে সড়কপথে দু-একদিনের মধ্যে তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব নয় বলেই আশঙ্কা সিকিম প্রশাসনের। সেক্ষেত্রে কপ্টারের সাহায্যে ওই পর্যটকদের উদ্ধারের পরিকল্পনা চলছে। তবে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় লাচুংয়ে আটকে থাকা ১৬৭৮ জন পর্যটককে এদিন ধাপে ধাপে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৭৩৭ জন পুরুষ, মহিলা ৫৬১ জন ও শিশু ৩৮০ জন। সকাল সাতটা থেকে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ২৮৪টি গাড়ি ও ১৬টি বাইকে করে প্রথমে পর্যটকদের লাচুং থেকে নিয়ে আসা হয় চুংথাং। তারপর সন্ধ্যা নাগাদ তাঁরা পৌঁছন গ্যাংটক। তিস্তার জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত ফিদাং বেইলি ব্রিজ মেরামত করা হলেও, বিপদের আশঙ্কা থাকায় ফেরার পথে হেঁটে ওই সেতু পার হন তাঁরা। পর্যটকদের উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন মঙ্গনের জেলাশাসক অনন্ত জৈন। লাচুং থেকে উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন সিকিম পুলিসের ডিজি অক্ষয় সচদেব। লাচেনে যেসব পর্যটক আটকে রয়েছেন, তাঁদেরও উদ্ধারে সবরকম চেষ্টা চলছে বলে এদিন দাবি করেন ডিজি। তবে গত ২৯ মে মুন্সিথাংয়ের কাছে খাদে গাড়ি পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ আট পর্যটককে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, শিলিগুড়ি-গ্যাংটক লাইফ লাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের তিন জায়গায় রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য এদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত সমস্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে কয়েক কিমি লম্বা গাড়ির লাইন পড়ে যায়। আজ, মঙ্গলবারও ব্যস্ততম ওই রাস্তায় কাজ চলায় দুপুর পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে।