সংবাদদাতা, লালবাগ: বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা শতাব্দী প্রাচীন লন্ডন মিশন হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা চালুর আর্জি নিয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দ্বারস্থ হল জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভা। করোনার সময় এই হাসপাতালকে কোভিড হাসপাতাল করা হয়। কিন্তু করোনার প্রকোপ কমতেই হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যায়।পুরসভার আবেদনে সাড়া দিয়ে শনিবার হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ স্যানাল। তিনি হাসপাতাল ঘুরে দেখে চালুর বিষয়ে পুরসভাকে আশ্বস্ত করেন বলে জানা গিয়েছে। সন্দীপ স্যানাল বলেন, লন্ডন মিশন হাসপাতাল চালুর বিষয়ে জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে। আমি বিষয়টি রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি।
খ্রিষ্টান মিশনারীদের উদ্যোগে ১৮৯৪ সালে জিয়াগঞ্জে ৪২ বিঘা জমির উপর প্রসূতি মা ও শিশুদের জন্য লন্ডন মিশন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৭০ সালে ডায়াসিস অফ ব্যারাকপুর হাসপাতালটি অধিগ্রহণ করে খ্রিষ্টীয় সেবাসদন নামকরণ করে। ১৫ বছর চালানোর পর ১৯৮৫ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকারকে হাসপাতালটি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ১৯৯৫ সালের ১৪ জুলাই রাজ্য সরকার অধিগ্রহণ করে স্টেট জেনারেল হাসপাতাল ঘোষণা করে। কিন্তু ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক এসে হাসপাতাল সিল করে দেন। হাসপাতালের কর্মীরা অবশ্য নিয়মিত মাসিক বেতন পেতেন। সিলের ৬ মাসের মধ্যে কর্মীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলি করে দেওয়া হয়। ২০০০ সালে জেলাপরিষদের উদ্যোগে বহির্বিভাগ চালু হয়। জেলা পরিষদ থেকে চিকিৎসক দেওয়া হয়। ২০০২ সালে বহির্বিভাগ বন্ধ হয়ে যায়। তিন বছর বন্ধ থাকার পর ২০০৫ সালে তৎকালীন পুরসভা ও জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের উদ্যোগে বহির্বিভাগের সঙ্গে ২০ শয্যা বিশিষ্ট ইন্ডোর পরিষেবাও চালু হয়। এক বছরের মধ্য স্ত্রী, শিশু, অস্থি, দন্ত, চক্ষু সহ একাধিক বিভাগের পাশাপাশি ১০০ শয্যা চালু হয়।এহেন হাসপাতালটি ২০১৩ সাল থেকে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। যদিও করোনা কালে বছর দুয়েক কোভিড হাসপাতাল হয়েছিল।
জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা সমর দাস বলেন, লন্ডন মিশন হাসপাতাল একসময় শহরের ঐতিহ্য ছিল। জিয়াগঞ্জ সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষজন চিকিৎসার জন্য এখানে ছুটে আসতেন। বন্ধ হয়ে পড়ে থাকায় এখন লালবাগে ছুটতে হচ্ছে। চালু হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে চালু করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। পুরসভার আবেদনে সাড়া দিয়ে তিনি পরিদর্শন করে গেছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।