Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফের হাজিরা এড়ালেন অনুব্রত, এআই দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দ্বিতীয়দিনও পুলিসের কাছে হাজিরা এড়ালেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। রবিবার তাঁর আইনজীবী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু পুলিসের সঙ্গে দেখা করেন।

ফের হাজিরা এড়ালেন অনুব্রত, এআই দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ
  • ২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, বোলপুর: অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দ্বিতীয়দিনও পুলিসের কাছে হাজিরা এড়ালেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। রবিবার তাঁর আইনজীবী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু পুলিসের সঙ্গে দেখা করেন। আজ, সোমবার সিউড়ি আদালতে অনুব্রতবাবু জামিন নিতে পারেন বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিন তাঁর আইনজীবী বলেন, উনি অসুস্থ, সেই নথি পুলিসের হাতে দেওয়া হয়েছে। অনুব্রতকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। এআই(আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুব্রতর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অনুব্রত ঘনিষ্ঠ দলের এক নেতা। অনুব্রতর পক্ষ নিয়ে ফেসবুক লাইভে বোলপুর থানার আইসিকে আক্রমণ করেছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি বিক্রমজিৎ সাউ। রবিবার তাঁকে সাসপেন্ড করেছে দল।

Advertisement

বোলপুর থানার আইসিকে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অনুব্রতর বিরুদ্ধে। দলের নির্দেশে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। পুলিস তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করেছে। অডিও ক্লিপের কণ্ঠস্বর কার তা জানতে ফরেন্সিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিস। প্রথমে শনিবার ও পরে এদিনই হাজিরা দেওয়ার জন্য অনুব্রতকে নোটিস দিয়েছিল পুলিস। কিন্তু দু’দিনই তিনি হাজিরা এড়ালেন। এদিন নির্দিষ্ট সময়ে বোলপুরের এসডিপিও অফিসে আসেন তাঁর আইনজীবী বিপদতারণ ভট্টাচার্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু তথা শিক্ষাবন্ধু সেলের রাজ্য সভাপতি দেবব্রত সরকার ওরফে গগন। তাঁরা তদন্তকারী পুলিস অফিসার, বোলপুরের এসডিপিও রিকি আগরওয়ালকে অনুব্রতর অসুস্থতার নথি জমা দেন। 
গগন সাংবাদিকদের বলেন, কেষ্টদা অসুস্থ, বাড়িতে শুয়ে আছেন। কোনও ফোনকল করা হয়নি। এআইয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে। অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটা ষড়যন্ত্র। দল যা নির্দেশ দেবে কেষ্টদা তাই করবেন। উনি মুখ্যমন্ত্রী ও দলের অনুগত সৈনিক। দল তদন্ত করছে। দল যা বলেছে উনি তাই করেছেন। দলের একাংশ এই ঘটনায় যুক্ত থাকতে পারে। আইনজীবী বিপদতারণবাবু বলেন, তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করেছি। ভবিষ্যতেও করব। আইন, প্রশাসন, আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। অনুব্রত চক্রান্তের শিকার। কারা চক্রান্ত করছে তা অবশ্য তিনি বলতে রাজি হননি। যদিও জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, অনুব্রত নিজেই ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। এক্ষেত্রে নতুন করে এআই তত্ত্ব বা ফরেন্সিক পরীক্ষা কোনওটারই যুক্তি খাটে না। সবটাই তৃণমূলের নাটক।
অনুব্রতর পক্ষ নিয়ে গত ২৯মে সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে আইসির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন টিএমসিপির জেলা সভাপতি বিক্রমজিৎ। আইসিকে দুর্নীতিগ্রস্ত, কাপুরুষ, চোর, চিটিংবাজ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সেই লাইভ ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ডিলিটও করে দেন। অনিচ্ছাকৃত ভুল বলেও পরে দাবি করেন। তার এই কার্যকলাপে‌ ক্ষুব্ধ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য নেতৃত্ব। তাঁকে ছ’বছরের জন্য সংগঠন থেকে সাসপেন্ড করেছেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ