Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে মৃত্যু আরও একজন শ্রমিকের

শনিবার চম্পাহাটির হাড়ালে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হল আরও এক শ্রমিকের। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ মণ্ডল (২৬)।

বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে মৃত্যু আরও একজন শ্রমিকের
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: শনিবার চম্পাহাটির হাড়ালে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হল আরও এক শ্রমিকের। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ মণ্ডল (২৬)। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল। সোমবার সেখানেই মারা যান তিনি। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার পিয়ালিতে। ঘটনার দিনই মৃত্যু হয়েছিল এক শ্রমিকের। গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন আরও দুই শ্রমিক। তাঁদের একজন রয়েছেন এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে।

Advertisement

এদিকে, পোল্ট্রি ফার্মের আড়ালেই চলছিল বেআইনি শব্দবাজির কারখানা। চম্পাহাটির হাড়ালে গত শনিবার বাজি কারখানায় যে বিস্ফোরণ হয়েছে, তার পাশেই রয়েছে এই পোল্ট্রি ফার্ম। তবে তাতে আর মুরগি রাখা হয় না, তার বদলে থাকে বস্তা বস্তা বাজির মশলা, চকোলেট বোমা। এটি নিষিদ্ধ বাজির মজুত ভাণ্ডার হয়ে উঠেছিল। ২০২৪ সালে বারুইপুর থানার পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে এই ফার্ম থেকে প্রচুর চকোলেট বোমা উদ্ধার করেছিল। তারপর তারা এই ফার্ম সিল করে দিয়ে যায়। তারপরেও এখানে কীভাবে বাজির কারবার চলত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই অবৈধ বাজি কারখানায় গিয়ে দেখা গেল, এখনও চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে তুবড়ির অজস্র খোল, ছোটো আকারের চকোলেট বোমা। বিস্ফোরণস্থলের ঠিক পিছনে থাকা কয়েকটি সাইকেল পুড়ে গিয়েছে। এদিকে, ভস্মীভূত কারখানার মালিক বিধান নস্কর এখনও পলাতক। তাঁর সন্ধানে পুলিশ তল্লাশি জারি রেখেছে। 
বিস্ফোরণস্থলটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। তার পাশেই রয়েছে ওই পোল্ট্রি ফার্ম। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ওই ফার্মের মালিক বাজি ব্যবসায়ী দেবাশিস মণ্ডল ও শুভাশিস মণ্ডল। ঘটনার পর তাঁরাও উধাও। ফার্মের কাছেই মাচা করা রয়েছে। সেখানে চকোলেট বোমা তৈরির পর শুকনো করতে দেওয়া হয়। দেখা গেল, ওই মাচায় বেশ কয়েকটি চকোলেট বোমা এখনও পড়ে রয়েছে। ফার্মের ভিতরে বস্তা ভর্তি বাজির মশলা, চকোলেট বোমা। পোল্ট্রি ফার্মের মালিকের বিরুদ্ধে পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন করছেন বাসিন্দারা। তাঁদের কথায়, যে কারখানায় বিস্ফোরণ হয়, তার মালিক একা দোষী নয়, বাকি ব্যবসায়ীরাও সমান দোষী।  শনিবার এই অঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় বহু শ্রমিক বাজি তৈরি করছিলেন। বিস্ফোরণের পর তাঁরা যে যাঁর মতো পালিয়ে যান। তবে কারখানার পিছনে পড়ে থাকা দগ্ধ সাইকেলগুলি কাদের, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে, ঘটনার পর তিনদিন কেটে গেলেও এখনও ঘটনাস্থলে যয়নি ফরেনসিক দল। তাহলে কীভাবে নমুনা সংগ্রহ হবে, সেই প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। সোমবারও হাড়াল এলাকা ছিল শুনশান। দোকানপাট ছিল বন্ধ। মাঝে মধ্যেই পুলিশের গাড়ি টহল দিচ্ছে এলাকায়।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ