নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শ্যামবাজারের পর এবার জওহরলাল নেহরু রোড। ফের শহরে বাসের রেষারেষি। তার জেরে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে পরপর সাতটি গাড়িকে ধাক্কা মারল বাস। বুধবার দুপুরে ময়দান থানা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। এর জেরে জখম হয়েছেন পাঁচ বাসযাত্রী। যদিও কারও আঘাত গুরুতর নয়।
এক্সাইড মোড় থেকে পার্ক স্ট্রিটের দিকে যাচ্ছিল ৪৭বি রুটের একটি বাস। জীবনদীপ স্টপ থেকে যাত্রী তুলতে অন্য রুটের একটি বাস ওভারটেক করার চেষ্টা করে সেটিকে। প্রসঙ্গত, জওহরলাল নেহরু রোডের ওই অংশে রাস্তার ধারে গাড়ি পার্কিং করা থাকে। ওভারটেকের সময় সেই বাস ৪৭বি রুটের বাসকে এমনই চেপে দেয় যে, সেটি বাঁদিকের পার্কিং লটে ঢুকে যায়। সেখানে তখন দাঁড়িয়েছিল একটি অ্যাপ ক্যাব সহ বহু গাড়ি। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, ওই বাসচালক বেপরোয়াভাবে গতি বাড়িয়ে ওভারটেক করায় নিয়ন্ত্রণ হারায় ৪৭বি রুটের বাসচালক। প্রথমে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাপ ক্যাবে সজোরে ধাক্কা মারে বাসটি। আরও ছ’টি গাড়িতে পরপর ধাক্কা লাগে। দুমড়ে মুচড়ে যায় সেই সব গাড়ির বনেট। অ্যাপ ক্যাবের বাম্পারও ভেঙে যায়।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসের যাত্রীরা জানিয়েছেন, দু’টি বাসই শ্যামবাজারমুখী ছিল। প্রায় একই রুটের বাস দেখে দুই চালকই রেষারেষির পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। জীবনদীপ ক্রসিংয়ে আসার আগে এক্সাইড মোড়েও একপ্রস্থ রেষারেষি করেছে তারা। বাসযাত্রী সুমনা ভৌমিকের কথায়, ‘গাড়িতে ধাক্কার জেরে তীব্র ঝাঁকুনি হয়। তার জেরেই আঘাত লেগেছে মাথায়। অনেকেই বাসের মধ্যে পড়ে যান। তিনজন প্রবীণ যাত্রী জখম হয়েছেন। সব মিলিয়ে পাঁচ-ছ’জনের আঘাত লেগেছে।
বিকট শব্দ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ময়দান থানা ও সাউথ ট্রাফিক গার্ডের পুলিস। দুর্ঘটনার কবলে পড়া বাস থেকে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনেন তাঁরা। বাসটিকে আটক করা হয়। একইসঙ্গে চালককে ময়দান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রের খবর। দুমড়ে যাওয়া অ্যাপ ক্যাবের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিস। সেই গাড়িটিকেও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত অন্যান্য গাড়ির মালিকদেরও খবর দেয় পুলিস। উল্লেখ্য, চারদিন আগে শ্যামবাজার ক্রসিংয়ের কাছে রেষারেষির জেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস সরাসরি ফুটপাতে উঠে গিয়ে দোকানে ঢুকে পড়ে। সেই সময় দোকানটি বন্ধ ছিল। তবে বাসের চার যাত্রী জখম হন।