পাপ্পা গুহ, উলুবেড়িয়া: হাওড়া জেলায় প্রাচীন পারিবারিক পুজোর ইতিহাসকে বহন করে চলেছে যেগুলি, তার মধ্যে অন্যতম হল আমতার নারিটের ভট্টাচার্য বড় বাড়ির দুর্গাপুজো। এই পুজো এবার ৫১১ বছরে পদার্পণ করল। এই পুজোকে ঘিরে রয়েছে একাধিক ইতিহাস। মহেশচন্দ্র ন্যায়রত্ন, মন্মথ ভট্টাচার্য, কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য প্রমুখ এই পরিবারের সদস্য ছিলেন। শোনা যায়, ভট্টাচার্য পরিবারের পূর্বপুরুষ আর্যভট্টের হাত ধরেই এই বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল। সেই সময় ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত জমজমাট থাকত নারিটের ভট্টাচার্যদের বড় বাড়ি। এখনও পুজোর দিনগুলিতে বাড়িতে একশো থেকে দেড়শো জনের পাত পড়ে। পরিবারের অন্যতম সদস্য ডাঃ অভিজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, নিয়ম মেনেই জন্মাষ্টমীর দিন একচালা কাঠামোয় মাটি দেওয়া হয়। এরপর বংশ পরম্পরায় মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা তৈরি করেন। মহালয়ার দিন বাড়ির সামনে শিবমন্দিরে শ্মশান কালীপুজোর মধ্যে দিয়ে দেবীর আবাহন হয়। এরপর নিয়ম মেনে পুজো হয়। সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত মাকে নানা ধরনের ভোগ দেওয়া হয়। পরিবারের দীক্ষিত মহিলারা কাঠের উনুনে রান্না করেন। প্রতিদিন মাকে ভোগে পোনা, চিংড়ি এবং শোল মাছ পোড়া দেওয়া হয়। নবমীতে হয় ছাগ ও ফল বলি। দশমীর দিন সিঁদুর খেলার পর প্রতিষ্ঠিত পুকুরে প্রতিমা বির্সজন দেওয়া হয়। তবে দশমীতেই শেষ নয়, পরের দিন একাদশীতে উত্তরবাহিনী পুজোর মধ্যে দিয়ে পুজোপর্ব শেষ হয়। অভিজিৎবাবু বলেন, আমাদের প্রতিমার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল দেবীর বাঁদিকে থাকে গণেশ এবং ডানদিকে থাকে কার্তিক। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কর্মসূত্রে যাঁরা বাইরে থাকেন, তাঁরা বাড়ি ফিরে দুর্গাপুজোয় শামিল হন। ফাইল চিত্র



