Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আমতায় শর্টকার্ট চ্যানেল সংস্কারে এবার রাজ্যের ‘ব্যয়বিহীন মডেল’

খাল সংস্কারের জন্য আর টাকা খরচ নয়। উল্টে ঠিকাদারকে খাল সংস্কারের বরাত এবং মাটি বিক্রির সুযোগ করে দিয়ে দ্বিগুণ আয় করার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার।

আমতায় শর্টকার্ট চ্যানেল সংস্কারে এবার রাজ্যের ‘ব্যয়বিহীন মডেল’
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: খাল সংস্কারের জন্য আর টাকা খরচ নয়। উল্টে ঠিকাদারকে খাল সংস্কারের বরাত এবং মাটি বিক্রির সুযোগ করে দিয়ে দ্বিগুণ আয় করার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। এর ফলে ঠিকাদারের কাছ থেকে রাজ্য সরকার যেমন বিনা পয়সায় মাটি পাবে বিভিন্ন উন্ননয়নমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য, সেই রকম মাটি কাটার জন্য ঠিকাদারের কাছ থেকে রাজস্বও পাবে। এর পোশাকি  নাম দেওয়া হয়েছে ‘রাজ্য কোষাগারের ব্যয়বিহীন মডেল’।

Advertisement

আমতা বিধানসভা এলাকার শর্টকার্ট চ্যানেল খননের মধ্যে দিয়ে এই প্রকল্প চালু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সেই কারণে রাজ্যের বহু নিকাশি খাল সংস্কারের কাজ বিশ্রিভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে একদিকে বর্ষার জল জমে সমস্যায় পড়ছে সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে কৃষিকাজেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে খাল সংস্কারের জন্য রাজ্য সরকার ‘ব্যয়বিহীন মডেল’ চালু করেছে। এই প্রকল্পে খাল সংস্কারের জন্য রাজ্য সরকার কোনও টাকা খরচ করবে না। ঠিকাদারকেই খাল সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হবে, পাশাপাশি তাঁকেই খাল থেকে তোলা মাটি বা পলি বিক্রির সুযোগ দেওয়া হবে। তবে ঠিকাদার যে পরিমাণ মাটি বা পলি তুলবে, তার ১০ শতাংশ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়মূলক প্রকল্পে দিতে হবে। পাশাপাশি সরকারকে নির্ধারিত রাজস্বও দিতে হবে। সুতরাং এই প্রকল্পে এক টাকাও খরচ না করে রাজ্য সরকার দুভাবে উপকৃত হচ্ছে।
এই প্রকল্পে আমতা ২ ব্লকের শর্টকার্ট চ্যানেল সংস্কার করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, থলিয়া থেকে বাকসি পর্যন্ত প্রায় ১১.৬৫ কিলোমিটার খাল সংস্কার করা হবে। খাল থেকে ১ কোটি ৭০ লক্ষ সিএফটি মাটি বা পলি তোলা হবে। খালটি সংস্কার হলে থলিয়া, জয়পুর, ঝামটিয়া, খালনা, কাশমলি ও বাকসি– এই ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার কৃষক ও বাসিন্দা উপকৃত হবেন। খালটি সংস্কারের জন্য আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। তার ভিত্তিতে রাজ্য সরকার এই ‘ব্যয়বিহীন মডেল’ প্রকল্পে খালটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এজন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল। তিনি বলেন, খালটি সংস্কার হলে একদিকে যেমন গ্রীষ্মকালে কৃষকরা সেচের জল পাবেন, সেইরকম বর্ষাকালে যথাযথ নিকাশির ফলে বন্যার হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ