Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আমতার ঝিকিরা, দুই বোন দেবী জয়চণ্ডী ও গড়চণ্ডী পুজো পান দুর্গারূপে

হাওড়ায় আমতা দু’ নম্বর ব্লকের অন্যতম প্রাচীন জনপদ হল ঝিকিরা। এই গ্রামে পাশাপাশি অবস্থান দেবী জয়চণ্ডী এবং দেবী গড়চণ্ডীর।

আমতার ঝিকিরা, দুই বোন দেবী জয়চণ্ডী ও গড়চণ্ডী পুজো পান দুর্গারূপে
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: হাওড়ায় আমতা দু’ নম্বর ব্লকের অন্যতম প্রাচীন জনপদ হল ঝিকিরা। এই গ্রামে পাশাপাশি অবস্থান দেবী জয়চণ্ডী এবং দেবী গড়চণ্ডীর। দুর্গাপুজোর সময় দু’বোনের পুজো ঘিরে রীতিমত উৎসবের চেহারা দেখা যায় গ্রামে। ঝিকিরার সরখেল পাড়ায় থাকেন দেবী জয়চণ্ডী। মধ্যপাড়ায় থাকেন গড়চণ্ডী। এই দু’বোনের গ্রামে আগমন নিয়ে সঠিক দিনক্ষণ কারও জানা নেই। তবে গ্রামবাসীদের মতে প্রাচীন কাল থেকেই দেবীদের পুজো হয়ে চলেছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, অতীতে গ্রামের শ্মশানের পাশে সিদ্ধপীঠে দুর্বার খাঁ নামে এক সাধক থাকতেন। সে সময় জয়চণ্ডী স্বপ্নাদেশ দেন দুর্বাকে। স্বপ্নে বলেছিলেন, আমি টিয়াপাখি হয়ে একটি কাঠের উপর বসে থাকব। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের স্ত্রীই টিয়াকে ধরে দেওয়ার জন্য বায়না ধরবে। যে পাখি ধরে দেবে তাকে অনেক সম্পত্তি দেওয়া হবে এ কথা জানাবে। এরপর দুর্বার খাঁ টিয়া ধরে রানিকে দিয়ে প্রচুর ধনসম্পত্তি পান। পাখি বসার কাঠটি নিয়ে এসে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করেন। জয়চণ্ডী মাতা ঠাকুরানি এস্টেটের সম্পাদক দুর্গাদাস চট্টোপাধ্যায় জানান, এখানে অন্য কোনও দেবীমূর্তি আনা হয় না। জয়চণ্ডী মাতাকেই শীতলা, মনসা,  দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী, সরস্বতী রূপে পুজো করা হয়। এখন নিত্যপুজো হয়। অন্ন, পঞ্চব্যঞ্জন ও মাছ ভোগ দেওয়ার রীতি। দুর্গাপুজোর সপ্তমী, সন্ধিপুজো এবং নবমীতে পাঁঠা বলি দেওয়ার নিয়ম। পুজোর দিন ভোগের সঙ্গে মাছ, পিঠে, পায়েস দেওয়া হয়। এছাড়াও নবমীতে অন্ন, খিচুড়ি, মাছ, মাংস থাকে। প্রতি ১০ বছর অন্তর দেবীর অঙ্গরাগ এবং ঘট বির্সজন। পাশেই থাকেন দেবীর বোন গড়চণ্ডী। সকলের বিশ্বাস, প্রতিদিন রাতে গড়চণ্ডী দিদি জয়চণ্ডীর কাছে শুতে যান।’ 
মধ্যপাড়ায় থাকেন দেবী গড়চণ্ডী। সেখানেও কাঠের দেবীমূর্তি। গড়চণ্ডী মাতা ঠাকুরানি এস্টেটের সহ সম্পাদক নীলাঞ্জন হাজরা জানান, গড়চণ্ডী মাকে নিত্যপুজো করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপে পুজো করা হয়। প্রতিপদ থেকে এখানে দুর্গা পুজো শুরু হয়। বৈদিক মতে পুজো। পুজোর দিন থাকে বিশেষ ভোগের আয়োজন। আগে ছাগ বলি হলেও এখন ফল বলি দেওয়া হয়। পুজোর পর দশমীতে প্রতিষ্ঠিত পুকুরে ঘট বির্সজন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ