Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

সংবাদ মাধ্যমে ‘সংবেদনশীল’ তথ্য ফাঁস করলে সিক্রেসি অ্যাক্টে ব্যবস্থা, কেন্দ্রের অফিসারদের হুঁশিয়ারি অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

সম্প্রতি সংসদে পেশ হওয়া আর্থিক সমীক্ষায় তথ্যের অধিকার আইন (আরটিআই) খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কিছু অংশ সংশোধনের কথা বলা হয়েছিল। তারই মধ্যে এবার জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা একটি নির্দেশিকা প্রকাশ্যে এল।

সংবাদ মাধ্যমে ‘সংবেদনশীল’ তথ্য ফাঁস করলে সিক্রেসি অ্যাক্টে ব্যবস্থা, কেন্দ্রের অফিসারদের হুঁশিয়ারি অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: সম্প্রতি সংসদে পেশ হওয়া আর্থিক সমীক্ষায় তথ্যের অধিকার আইন (আরটিআই) খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কিছু অংশ সংশোধনের কথা বলা হয়েছিল। তারই মধ্যে এবার জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা একটি নির্দেশিকা প্রকাশ্যে এল। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি, ওই নির্দেশিকায় সরকারি আধিকারিকদের রীতিমতো সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। অমিত শাহের মন্ত্রক থেকে বলা হয়েছে, কোনো রকম গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য মিডিয়াকে জানানো যাবে না। তেমনটা হলে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টে (ওএসএ) ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে সব কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দপ্তরের সচিবের কাছে। 

Advertisement

কিন্তু আচমকা কেন এমন নির্দেশিকা? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, সামগ্রিকভাবে দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বা সরকারকে বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হতে পারে, এমন সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঘটনা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সূত্রেই এই কড়া নির্দেশিকা। ঘটনাচক্রে, ২৮ বছর আগে ১৯৯৮ সালেও প্রায় একই যুক্তিতে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। মূলত সেই নির্দেশিকাকেই আপডেট করা হয়েছে এবার। তবে দুই নির্দেশিকার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও রয়েছে। ২৮ বছর আগের নির্দেশিকায় অফিসারদের বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয়তা আইনে পদক্ষেপের উল্লেখ ছিল না। এবারের নির্দেশিকায় তার উল্লেখ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে আমলা মহলে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল নারাভানের অপ্রকাশিত বই নিয়ে সংসদে ও সংসদের বাইরে সরকার ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত তুঙ্গে ওঠে। সেই আবহেই গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকে বিষয়টি ওঠে বলে খবর। ‘ক্ষমতাশালী পদে’ থাকা ব্যক্তিদের বই বা স্মৃতিচারণা লেখার ক্ষেত্রে ২০ বছরের ‘কুলিং অফ’ সময়সীমা বেঁধে দেওয়া নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকায় ঠিক কোন ধরনের ‘তথ্য ফাঁসে’র ঘটনাকে কেন্দ্র করে অফিসারদের বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয়তা আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের সতর্কতা দেওয়া হল, তা স্পষ্ট নয়। তবে সেখানে অফিসারদের ‘পরামর্শ’ দেওয়া হয়েছে, সাংবাদিকদের যে কোনো প্রশ্নের উত্তর তৎক্ষণাৎ দেওয়া যাবে না। সেই প্রশ্ন হয় প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) কাছে পাঠাতে হবে, নয়তো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের সচিবের অনুমতি গ্রহণ করে তবে উত্তর দেওয়া যাবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ