সংবাদদাতা, বজবজ: বছর পাঁচেক আগে ভাটকাখালি গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে, প্রায় জনমানবশূন্য এলাকায় একটি আটচালা ঘর তৈরি করে থাকতে শুরু করেছিল অমিত দত্ত। তখন আক্ষরিক অর্থেই তার নুন আনতে পান্তা ফুরনোর মতো অবস্থা। দিন আনা দিন খাওয়া বলতে যা বোঝায়, তার অবস্থা ছিল সেটাই। কিন্তু বছর দু’য়েক আগে থেকে আচমকাই আমূল বদলে যেতে শুরু করে তার অবস্থা। আশপাশে যে ক’জন পড়শি ছিলেন, তাঁরা আশ্চর্য হয়ে দেখতে থাকেন, আটচালা ঘরের জায়গায় প্রথমে একতলা পাকাবাড়ি, তারপর ধাপে ধাপে তিনতলা পেল্লাই প্রাসাদ মাথ তুলেছে। আগে যেখানে একটা ভাঙা সাইকেল নিয়ে অমিত যাতায়াত করত, এখন মোটরবাইক এবং একটি চারচাকা গাড়ি। বাড়ির নানা জায়গায় সিসিটিভি নজরদারি। স্থানীয়রা বলছেন, এই দু’বছরে বাওয়ালি গঞ্জ শহরের সখেরবাজারে একটি টিনের চালাঘর সহ জমি কিনে সেখানে তিনতলা রেস্তরাঁ কাম হোটেল খুলেছিল সে। কয়েকদিন চলার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক কীসের সৌজন্যে অমিতের এরকম ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ অবস্থা, তা নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে নানা জল্পনা ছিল। তবে কেউই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারত না। কয়েকদিন আগে হাওড়ার (গ্রামীণ) রাজাপুর থানা এলাকায় চুরি করতে গিয়ে পুলিসের হাতে ধরা পড়ে সে। পুলিস তদন্তের প্রয়োজনে তাকে হাতকড়া পরিয়ে ভাটকাখালি গ্রামের সেই অট্টালিকার সামনে আনতেই এলাকাবাসীর কাছে বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যায়। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে সেই পেল্লাই বাড়ি দেখার জন্য ভাটকাখালির ওই নির্জন এলাকায় ভিড় জমাচ্ছেন অনেকে।



