Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

জামাতের দিকে ‘বন্ধুত্বে’র হাত বাড়াতে চায় আমেরিকা, ফাঁস মার্কিন কূটনীতিকের বার্তা

আগামী মাসে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় ভোটের ময়দানে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে কট্টর ইসলামপন্থী দল জামাত-এ-ইসলামি।

জামাতের দিকে ‘বন্ধুত্বে’র হাত বাড়াতে চায় আমেরিকা, ফাঁস মার্কিন কূটনীতিকের বার্তা
  • ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: আগামী মাসে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় ভোটের ময়দানে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে কট্টর ইসলামপন্থী দল জামাত-এ-ইসলামি। আর এই আবহে জামাতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্ক গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে আমেরিকা। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট একটি প্রতিবেদনে এমনই দাবি করেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, কিছুদিন আগে ঢাকায় কর্মরত এক মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকজন সাংবাদিকের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের অডিয়ো রেকর্ডিং মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির হাতে এসেছে। বৈঠকে ওই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ ক্রমশ ইসলামপন্থী হওয়ার দিকে ঝুঁকেছে। এই পরিস্থিতিতে জামাত তাদের সর্বকালের সেরা ফল করতে পারে। এদিকে, আমেরিকা যদি সত্যিই জামাতের সঙ্গে বন্ধুত্ব বৃদ্ধির পথে হাঁটে, তাহলে তা ভারতের জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সেক্ষেত্রে নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের সম্পর্ক আরও জটিলতার মধ্যে পড়তে পারে।

Advertisement

বাংলাদেশের ইতিহাসে বারবারই দেশবিরোধী অবস্থান নিয়েছে জামাত। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পাকিস্তানের পক্ষ নেয় তারা। জামাতকে একাধিকবার নিষিদ্ধও ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর কট্টরপন্থাকে হাতিয়ার করে ফের রাজনীতির ময়দানে প্রভাব ছড়িয়েছে জামাত। পড়ুয়াদের দল এনসিপি সহ দশ দলের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে লড়াই করছে তারা। আর আমেরিকা সমর্থন জোগালে জামাত ভোটের লড়াইয়ে অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। গোপনীয়তার স্বার্থে ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কূটনীতিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ওদের (জামাত) বন্ধু হিসেবে পেতে চাই।’ টিভি চ্যানেলে যাতে জামাতের ছাত্র সংগঠন শিবিরকে বেশি সময় দেওয়া হয়, তার জন্যও সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন ওই কূটনীতিক। জামাত ক্ষমতায় এলেও বাংলাদেশে শরিয়ত আইন চালু করতে পারবে না বলেও দাবি তাঁর। কূটনীতিকের দাবি, জামাত যদি বাংলাদেশকে কট্টর ইসলামপন্থার দিকে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে পরের দিনই ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেওয়া হবে।

আমেরিকা অবশ্য ওই বৈঠকের কথা অস্বীকার করেনি। গত বছরের ডিসেম্বরে এক সাধারণ আলাপচারিতায় ওই কূটনীতিকের সঙ্গে সাংবাদিকদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শিই। তাঁর দাবি, সেই আলোচনার অংশ হিসেবেই জামাতের প্রসঙ্গ উঠেছিল। ওই আলোচনা পুরোটাই ‘অফ দ্য রেকর্ড’ বলেও জানিয়েছেন মনিকা। তাঁর আরও দাবি, কোনো বিশেষ দলকে সমর্থন বা কারা সরকার গঠন করবে সেই বিষয়ে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা আমেরিকার নেই। জামাতের আমেরিকার মুখপাত্র মহম্মদ রহমানের বক্তব্য, ‘একটি কূটনৈতিক বৈঠকে ব্যক্তিগত পরিসরে কী আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ