নয়াদিল্লি: ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে মোদির কথোপকথনকে ‘কূটনৈতিক জয়’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে ভারত সরকার। আদতে আমেরিকা ভারতকে ‘ট্রিপল ঝটকা’ দিয়েছে বলে দাবি কংগ্রেসের। এর পরেই কূটনৈতিক ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে মোদি সরকারকে বিঁধেছে তারা। পাশাপাশি, সর্বদল বৈঠকের দাবিও তুলেছে হাত শিবির।
ঘটনার সূত্রপাত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির ৩৫ মিনিট ফোনালাপ ঘিরে। ওই কথোপকথন পর্বেই মোদি ট্রাম্পকে স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারত-পাক যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে তৃতীয় কারও হাত নেই। ইসলামাবাদের অনুরোধে সাড়া দিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই গোটা বিষয়টিকে মোদির কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই প্রচার শুরু করে গেরুয়া শিবির। যদিও পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফের দাবি করেন, এই যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে আসলে রয়েছেন তিনিই। এর মধ্যেই আসরে নেমে মোদি সরকারকে কটাক্ষ করে কংগ্রেস। হাত শিবিরের নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, ‘এটা আসলে ভারতীয় কূটনীতির জন্য তিনটি ধাক্কা। কারণ, যে আসিম মুনিরের প্ররোচনামূলক ভাষণের জেরে পহেলগাঁও কাণ্ড, বুধবার হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে লাঞ্চ করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ ওই ব্যক্তি সরকারের প্রধান পর্যন্ত নন। তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের লাঞ্চ ভারতের জন্য বড় ধাক্কা। দ্বিতীয় ধাক্কাটি
এসেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড চিফ জেনারেল মাইকেল কুরিল্লার তরফে। সন্ত্রাসদমন অভিযানের ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে অসাধারণ সঙ্গী
হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। যে পাকিস্তান অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছিল, তারা কীভাবে সন্ত্রাস দমনে অসাধারণ সঙ্গী হয়ে গেল? পাকিস্তান আসলে অভূতপূর্ব এক অপরাধী দেশ। তাদেরকে আমেরিকার তরফে সন্ত্রাস দমনে অসাধারণ সঙ্গী আখ্যা দেওয়াটা ভারতের কাছে দ্বিতীয় ধাক্কা। তৃতীয় ধাক্কাটি এসেছে ট্রাম্পের কাছ থেকেই। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বার বার দাবি করেছেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে রয়েছেন তিনিই।’ এর পরেই ‘পহেলগাঁও রিভিউ কমিটি’ গঠনের দাবিও তোলেন রমেশ।