নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ‘এখনও বাসেই যাওয়া-আসা করছি। তবে এরপর মেট্রোতেই যাব। সবাই তো যাচ্ছে। বাসে এলে একদম অফিসের সামনে নামতাম। এখন না হয় একটা অটো করে নেব। খরচ হয়তো একটু বেশি পড়বে। তবে গরম আর যানজট থেকে তো অন্তত রেহাই পাব।’ বেলেঘাটায় নিজের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে একটানা কথাগুলো বলে গেলেন হুগলির আদিসপ্তগ্রামের বাসিন্দা অরিন্দম মল্লিক। রোজ সকালে হাওড়া স্টেশনে নেমে বাসস্ট্যান্ডের দিকে ছোটেন তিনি। এবার রুটিন বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে অরিন্দমবাবু একা নন। সড়কপথে যানযন্ত্রণা আর বছরের বেশিরভাগ সময় অস্বস্তিকর গরমের হাত থেকে বাঁচতে মেট্রোকে আপন করে নিয়েছেন বহু নিত্যযাত্রী। অফিসের নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশনে নেমে হেঁটে বা অটো-বাস ধরে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছেন তুলনামূলক কম সময়ে। শিয়ালদহ থেকে সেক্টর ফাইভ—প্রত্যেকটি মেট্রো স্টেশনেই এমন যাত্রীদের আনাগোনা বাড়ছে।
সপ্তাহখানেক আগে নয়া তিন সম্প্রসারিত রুটে মেট্রো চালু হয়েছে। এই ক’দিনে অনেকেই চিরাচরিত বাস, অটোর যাত্রা ছেড়ে বাতানুকূল মেট্রোর রেকে ধাতস্থ হয়ে উঠেছেন। কেউ কেউ এখনও মেট্রোয় ভরসা না পেলেও বাকিদের দেখে সিদ্ধান্ত বদলের কথা ভাবছেন। সেই সঙ্গে কিছু উদ্বেগও উঁকি দিচ্ছে তাঁদের মনে। কারণ, হাওড়া-শিয়ালদহ সহ শহরের একাধিক রুটের বাসে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করেছে। যত দিন যাবে, যাত্রী আরও কমবে। এই অবস্থায় মেট্রোর যাত্রীদের আশঙ্কা, রাতে মেট্রো বন্ধ হয়ে গেলে বাস, অটো ‘শোধ’ তুলবে না তো! তখন তো বাস, অটো ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। ইচ্ছেমতো চড়া ভাড়া নেবে না তো বাসগুলি? শহরের সব দিকে ডানা মেলে দেওয়া মেট্রো নিয়ে প্রাথমিক উচ্ছ্বাসের পর্ব মিটতেই এই প্রশ্ন ভাবাচ্ছে যাত্রীদের। যেমন বালির বাসিন্দা স্বপন দে। তাঁর অফিস সল্টলেকে। তিনি বলছিলেন, ‘দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে মেট্রোর বিকল্প হয় না। কিন্তু বেশি রাতে কী হবে? সেই তো বাসই ভরসা। তারা এই সুযোগ উসুল করে নেবে না তো?’
আরও কিছুদিন গেলে স্বপনবাবুদের প্রশ্নের উত্তর মিলবে। তবে এখনই এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে হাওড়া বাসস্ট্যান্ডে। সকালের দিকের ভিড় এখনও ততটা পাতলা না হলেও বেলা ১০টার পর বাসগুলি রীতিমতো যাত্রী সংকটে ভুগছে। হাওড়া থেকে শিয়ালদহ যাওয়ার ২৮, ৭১, ৭২, ৪৪, ২৪বি, ২১৫ রুটের বাসগুলির আসনই ভরছে না বলে জানালেন ড্রাইভার, কন্ডাকটররা। এই অবস্থায় কেউ কেউ বলছেন, বড় রুট কমিয়ে ছোট ছোট রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যায় বাস-মিনিবাস থাকাটা প্রয়োজন। তাহলে মেট্রোর ভিড়ের সঙ্গে বাস রুটের একটা সামঞ্জস্য থাকবে।
ভাড়া বাড়বে কি না, জানেন না বাসমালিকরা। তবে তাঁরা স্পষ্টই বলছেন, যাত্রীসংখ্যা এভাবে কমতে থাকলে খরচ বাঁচাতে ট্রিপ কমাতে হবেই। হাওড়া স্টেশন থেকে এম জি রোড হয়ে শিয়ালদহ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ বাস চলে। সংখ্যাটা কমতে পারে। অল বেঙ্গল বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ধর্মতলা পর্যন্ত মেট্রো চালু হওয়ার পরই প্রায় ৩০ শতাংশ যাত্রী কমে গিয়েছে। এবার বাস রাস্তায় নামাতে হলে প্রয়োজনে রুট কাটছাঁট কিংবা বদল করতে হবে। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা হবে।’