


স্বপন দাস, কাকদ্বীপ: ২০০৯ সালে আইলার সময় সাগর বিধানসভার নামখানা ব্লকের বকখালি পর্যটন কেন্দ্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সমুদ্র সৈকতের প্রচুর ঝাউ গাছ ভেঙে পড়েছিল। এরপর ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসে বকখালি পর্যটন কেন্দ্রকে বিভিন্নভাবে সাজিয়ে তোলে। সেখানে নতুন করে আলো ও ঝাউগাছ বসানো হয়েছে। গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা ও পিকনিক স্পট তৈরি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য গঙ্গাসাগর ও বকখালি উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এই পর্ষদ উন্নয়নের বিষয়টি দেখাশোনা করে।
তবে গত ১৫ বছরে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে এই পর্যটন কেন্দ্রটি বেশ কয়েকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই পর্যটকরাও সাময়িকভাবে একটু মুখ ফিরিয়ে ছিলেন। কিন্তু নামখানায় এখন নতুন করে তিনটি পর্যটন কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। নতুন এই পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে ঘিরে ফের পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। এবার বকখালির পাশাপাশি নতুন এই তিনটি পর্যটন কেন্দ্রকেও সাজিয়ে তুলতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। তাই ২০২৬ সালের ভোটের প্রচারে এই ইস্যুটিকেও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
এবিষয়ে সাগর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা বলেন, বিভিন্ন দিক থেকে বকখালি পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন করা হয়েছে। কিন্তু বেশ কয়েকবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে এই পর্যটন কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন নামখানা ব্লকে নতুন করে আরও তিনটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। ফ্রেজারগঞ্জের দাসকর্নার হাতিকর্নারে কারগিল বিচ, হরিপুরে লয়ালগঞ্জ ও মৌসুনি পর্যটন কেন্দ্র। এই পর্যটন কেন্দ্রগুলি গড়ে ওঠার কারণে এখন প্রচুর পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন। আগামী দিনে বকখালির পাশাপাশি এই তিনটি পর্যটন কেন্দ্রেরও উন্নয়ন করা হবে।
এদিকে, সাগরের এসইউসি প্রার্থী অনুপম পানি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে হয়তো এই পর্যটন কেন্দ্রের কিছু উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সার্বিকভাবে এই এলাকার বাসিন্দাদের কোনো উন্নয়ন হয়নি। নতুন কোনো কর্মসংস্থানও হয়নি। তাই উন্নয়নের কথা তৃণমূলের ভোটমুখী প্রচার ছাড়া আর কিছু না।
এনিয়ে সাগরের বিজেপি প্রার্থী সুমন্ত মণ্ডল বলেন, বকখালি পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য সঠিক কোনো পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। এখানে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য কিছুই তৈরি করা হয়নি। এই দলটি নতুন তিনটি পর্যটন কেন্দ্রেরও কোনো উন্নয়ন করতে পারবে না।