নয়াদিল্লি: ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত! তারপর হঠাত্ করেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা। জানিয়ে দিলেন, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও ইজরায়েল। সোমবার রাতে কাতারে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরান হামলা চালানোর পর আরও ঘনীভূত হয়েছিল মহাযুদ্ধের আশঙ্কা। কিন্তু সেই মেঘও আপাতত কেটেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে যুদ্ধবিরতির পরেই জয়ের দাবি নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে আমেরিকা, ইরান ও ইজরায়েল। প্রত্যেকেরই দাবি, এই সংঘাতে জয় হয়েছে তাদেরই। কিন্তু ১২ দিনের যুদ্ধের পরে কার কী লাভ হল, তা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে চুলচেরা হিসেব।
ইরান-ইজরায়েল সংঘাত শুরুর প্রথমদিকে কূটনৈতিক সমাধানের উপর জোর দিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু শনিবার গভীর রাতে হঠাত্ই ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্রে বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলে আমেরিকার বি-২ বোমারু বিমান। যুদ্ধ না থামালে ইরানের উপর ফের হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প।কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্প ভালো করেই জানতেন যুদ্ধ চালিয়ে গেলে তিনি নিজের দেশেই প্রশ্নের মুখে পড়তেন। তাই কাতারের সেনাঘাঁটিতে হামলার চেষ্টার পরেও ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের পথে হাঁটেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বরং যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করে নিজেকে ফের ‘শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেন তিনি।
ইরানে হামলা চালানোর পর ব্যাপক প্রত্যাঘাতের মুখে পড়েছে ইজরায়েল। কিন্তু এই সংঘাতে তাদের ঝুলিতেও প্রাপ্তির সংখ্যা কম নয়। প্রথমত, একাধিকবার ইরানের এয়ার ডিফেন্স ভেঙে তাদের আকাশে ঢুকে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে ইজরায়েলি সেনা। ধ্বংস হয়েছে ইরানের বহু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কাঠামো। পাশাপাশি তাদের নিখুঁত নিশানায় প্রাণ হারাতে হয়েছে ইরানের একাধিক শীর্ষ সেনা আধিকারিককে। যার মধ্যে সেনা সর্বাধিনায়ক ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের দুই প্রধানও রয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইকেও ইজরায়েল টার্গেট করেছিল বলে দাবি করেছিলেন স্বয়ং ট্রাম্প। ইজরায়েলের আবেদনে সাড়া দিয়ে আমেরিকা যেভাবে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে, সেই বিষয়টিকেও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন হামলার পর ইরান কীভাবে জবাব দেয়, তার দিকেই নজর ছিল সকলের। খামেনেইও ঘোষণা করেছিলেন, ইরান প্রত্যাঘাত করবে। সোমবার কাতারের মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে উড়ে আসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। যদিও তাতে ক্ষয়ক্ষতি কিছু হয়নি। কিন্তু তারপরেই জানা যায়, তেহরান আগেই কাতার ও আমেরিকাকে হামলার বিষয়ে জানিয়েছিল। ইরান জানানোর পরেই কাতার তাদের আকাশপথ বন্ধ করে দেয়। আমেরিকাও তাদের ঘাঁটি খালি করে দেয়। জানিয়ে হামলা করায় ইরানকে ধন্যবাদও জানান ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে জানিয়ে হামলা করার অর্থ একটাই। নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধি ইরানের উদ্দেশ্য ছিল না। তেহরান জানত, হামলায় একজন মার্কিন সেনা মারা গেলেও আমেরিকা পাল্টা হামলার পথে হাঁটবে। তাই আগেই তারা সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেয়। খামেনেই দেশের মানুষকে দেখাতে চেয়েছিলেন, আমেরিকার মতো শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধেও তাঁরা হামলা চালাতে পারেন। সেই উদ্দেশ্যে তিনি সফল।