আমেদাবাদ: মেঝে ভর্তি কাঠের গুড়ো। পেরেক ঠোকার শব্দে কান পাতা দায়। এর মাঝেই বারবার অচেনা নম্বার থেকে ফোন আসছে। কথা বলার সময় নেই। একটা-দুটো শব্দ যথেষ্ট। তবে ওপারের প্রশ্নগুলো চেনা। উত্তরটাও অজানা নয়। স্রেফ ঘড়ির দিকে চোখ গেলেই চিন্তা বাড়ছে। এখনও কত কাজ বাকি!
আমেদাবাদের নীলেশ ভাগেলা। পেশায় অটোচালক। এখন অবশ্য পরিচয়টা বদলেছে। অটোর স্টিয়ারিং ছেড়ে হাতুড়ি ধরেছেন। দিনরাত এক করে গড়ছেন কফিন। এতদিন অটো চালানোর পাশাপাশি বাড়তি রোজগারের জন্য এই কাজ করতেন। তবে আমেদাবাদ বিপর্যয় রাতারাতি বদলে দিয়েছে নীলেশের পেশা। দুর্ঘটনায় হতদের জন্য কফিন তৈরির বরাত পেয়েছেন। একটানা ২১ ঘণ্টা কাজ করেও সামাল দিতে পারছেন না। একের পর এক ফোন আসছে। ক্রমশ বাড়ছে অর্ডারের সংখ্যা।
সরকারি হিসেবে আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ২৭৪। বিস্ফোরণে অধিকাংশ দেহই ঝলসে গিয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে দেহ শনাক্তকরণের কাজ চলছে। রাত পর্যন্ত ৭৬ টি দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আর সেইসব দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্যই দরকার হচ্ছে কফিন। নীলেশ জানালেন, দু’দিনে অন্তত ১০০টা কফিন তৈরি করবেন বলে কথা দিয়েছেন। বিষয়টাকে আর ব্যবসা নয়, মানুষের সেবা হিসেবে দেখছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ৮০টির বেশি কফিন ডেলিভারি করেছেন। দাবি, আরও ৩০টি কফিন প্রায় তৈরি। তবে কফিন তৈরি তাঁর পেশা নয়। তাই পেশাদারের মতো দ্রুত কাজ করতে পারছেন না। তবে সেই নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই। নিজের সবটুকু নিঙড়ে দিয়ে দুর্ঘটনায় মৃতদের চিরঘুমের ঠিকানা গড়ছেন। তাঁর তৈরি কফিনে কারও নাম লেখা নেই। বন্ধ বাক্সে বোঝাই করা নিস্তব্ধতা। যা কিছুক্ষণের মধ্যেই ভরে যাবে যন্ত্রণা মাখা ঝলসানো দলা পাকিয়ে যাওয়া এক একটা মৃতদেহে।