


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ডোমজুড়ের পর এবার বালিতে এসআইআরের কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও এক বিএলও। কুসুম মজুমদার নামের ওই আইসিডিএস শিক্ষিকা গত শনিবার মিটিং চলাকালীন আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাড়ি ফেরার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উত্তরপাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। এদিন সকালে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। কাজ নিয়ে তাঁকে যেভাবে চাপ দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিবাদ জানিয়ে কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএলওর পরিবার।
কুসুমদেবীর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার বালির একটি স্কুলে বিএলওদের নিয়ে মিটিং চলছিল। বালির ৩২ নম্বর পার্টে বিএলওর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। মিটিং চলাকালীন ইআরওর সামনেই মাথা ঘুরে পড়ে যান কুসুমদেবী। এরপর তাঁকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাতে ডেটা এন্ট্রির কাজ করতে বসলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কুসুমদেবীর স্বামী সুশান্ত মজুমদার বলেন, ‘১১ বছরের সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী থাকেন বালিতে। স্মার্টফোন চালাতে খুব একটা অভ্যস্ত নন তিনি। সেজন্য ডেটা এন্ট্রির কাজ করতে খুব সমস্যা হচ্ছিল। তারপরেও ওকে ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছিল। মাঝরাত পর্যন্ত ওকে কাজ করতে হচ্ছিল।’ এদিন সকালে অসুস্থ বিএলওকে দেখতে হাসপাতালে যান বালির বিধায়ক ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘কমিশনের এই অমানবিক সিদ্ধান্তে রাজ্যে একের পর এক বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কারওর কাজ করতে সমস্যা হলে তাঁকে ভয় দেখানো হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্কুলগুলি চলবে কীভাবে?’ এদিন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও আপাতত কুসুমদেবীকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তাররা। তাঁর স্বামী বলেন, ‘এই অবস্থাতেও যদি কাজ করতে বসতে হয়, তাহলে সেটা প্রাণঘাতী হতে পারে। কমিশনের কাছে লিখিতভাবে জানাবো।’ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।