সংবাদদাতা, মালদহ: ইংলিশবাজার শহরে ছানার বাজারে বিভিন্ন দুগ্ধপণ্যে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ উঠল। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন ছানা ও ক্ষীর বিক্রেতাদের একটি বড় অংশ। ইতিমধ্যেই পুলিস, প্রশাসন ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কাছে এ সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়েছে। বাজারে বিক্রি হওয়া ছানা ও ক্ষীরের নমুনাও সংগ্রহ করেছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। নমুনা পাঠানো হচ্ছে ওই বিভাগের পরীক্ষাগারে। পাশাপাশি ছানা ও ক্ষীরে ভেজাল মেশানোর মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়ে গোয়ালা, ছানা ও ক্ষীর ব্যবসায়ীদের একটি বর্ধিত সভাও ডাকা হয়েছে ২৬ মার্চ। আপাতত ওই সভার সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে সবাই।
ইংলিশবাজার শহরের অতুলচন্দ্র কুমার পুর বাজারের একাংশে বিক্রি হয় দুধ, ছানা ও ক্ষীর। বিভিন্ন মিষ্টির দোকানের মালিক থেকে সাধারণ মানুষ এই বাজার থেকেই দুগ্ধপণ্য কিনে থাকেন। সম্প্রতি কাজল ঘোষ, অমল ঘোষ, বাপী ঘোষ সহ ছানা ও ক্ষীর বিক্রেতাদের একাংশ অভিযোগ করেন, কেউ কেউ ভেজাল মেশানো দুগ্ধ পণ্য বিক্রি করছেন। অতিরিক্ত মুনাফার লোভেই বিক্রেতাদের একাংশ কার্যত নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে ছানা ও ক্ষীর তৈরি করে বিক্রি করছেন। ফলে সামগ্রিকভাবে দুর্নাম হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মহলেরই। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা।
অভিযোগের গুরুত্ব বুঝেই ওই ছানা বাজারকে কড়া নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর। মালদহের জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বলেন, ভেজাল মেশানো ছানা, ক্ষীর বিক্রির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ওই বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বাজারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কাটাতেও পুরসভাকে পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে। ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী বলেন, খাদ্য সুরক্ষার দিকটি নির্দিষ্ট দপ্তর দেখে। তবে অভিযোগ যখন উঠেছে, পুরসভাও বিষয়টির দিকে নজর রাখছে। ছানা বাজারে স্থায়ী ভবন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক প্রশান্ত বৈদিক বলেন, দুগ্ধপণ্যের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেলেই প্রশাসনকে পাঠিয়ে দেব। এদিকে ছানা ও ক্ষীর ব্যবসায়ীদের নিয়ে আগামী বুধবার বিনয় সরকার অতিথি আবাসে একটি আলোচনা সভা ডাকা হয়েছে। সভার উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম তৃণমূল কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, আমাদের লক্ষ্য যে কোনওমূল্যে ছানা ও ক্ষীরে ভেজাল মেশানো বন্ধ করা। বাজারে ছানা কেনাবেচা। নিজস্ব চিত্র।