নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সারা বছর আমল দেওয়া হয়নি। অর্থবর্ষের শেষপর্বে প্রশাসনের গুঁতোয় হুগলি জেলাজুড়ে পঞ্চায়েতগুলি রাজস্ব আদায়ে মরিয়া হয়ে ময়দানে নেমেছে। তার জেরে হুগলির গ্রামীণ প্রশাসনে হইচই পড়েছে। একেবারে শেষপর্বে এসে একাধিক পঞ্চায়েত বাড়তি রাজস্ব সংগ্রহের দাবিও পেশ করতে শুরু করেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্ব আদায়ের ফলে পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব তহবিল বৃদ্ধি পায়। সেটাই সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের বাৎসরিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে ধরা হয়। প্রকল্প অনুমোদনের প্রশ্নে কোন পঞ্চায়েত অগ্রাধিকার পাবে, তা তার উপর নির্ভর করে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে পঞ্চায়েতগুলিকে রাজস্ব আদায়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানাতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
হুগলি জেলা প্রশাসন মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে জেলার সমস্ত পঞ্চায়েতের রাজস্ব আদায়ের তালিকা পর্যালোচনা করা শুরু করে। তাতে দেখা যায়, চুঁচুড়া-মগরা থেকে শ্রীরামপুর-উত্তরপাড়া সহ প্রায় সব ব্লকের একগুচ্ছ পঞ্চায়েত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। মূলত, গত অর্থবর্ষের নিরিখে পঞ্চায়েতগুলির রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়। পরিস্থিতি যাচাই করে জেলার একগুচ্ছ পঞ্চায়েতকে সতর্ক করে ২১ মার্চ চিঠি দেয় জেলার পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। তারপর জেলাজুড়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হুড়োহুড়ি পড়ে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষের নিরিখে ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে হুগলি জেলা সদরের পঞ্চায়েত মহানাদের ঘাটতি ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। সোমবার মহানাদের প্রধান শুভেন্দু দাস দাবি করেছেন, তাঁরা ঘাটতি মিটিয়ে অতিরিক্ত সত্তর হাজার টাকা রাজস্ব জমা করেছেন। শুভেন্দুবাবু বলেন, আমাদের ঘাটতি ছিল। অবহেলার কারণেই লক্ষ্যমাত্রা থেকে কিছুটা দূরে ছিলাম আমরা। শেষমেশ সব ঘাটতি মিটিয়ে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করেছি।
হুগলির শ্রীরামপুর মহকুমা সদরের কানাইপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভবেশ ঘোষ বলেন, প্রশাসনের চিঠি আমরা পেয়েছি। তারপর উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমরা লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ফেলেছি। সরকারি তথ্য অনুসারে ওই পঞ্চায়েতের ঘাটতি ছিল প্রায় সাড়ে ছ’লক্ষ টাকা। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ৪ এপ্রিলের পর সমস্ত হিসেব কষা হবে। মার্চ মাসে এসেও বহু পঞ্চায়েতের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ছিল। যা খুবই উদ্বেগজনক।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে দেখা গিয়েছে, হুগলির একগুচ্ছ বর্ধিষ্ণু ব্লকে রাজস্ব ও অন্যান্য খাতে আয় বিপুল কমেছে। সেই তালিকায় সিঙ্গুর, চণ্ডীতলার দু’টি ব্লক, ধনেখালির মতো ব্লক ছিল। চণ্ডীতলা ২ নম্বর ব্লকের একটি পঞ্চায়েতে গতবারের তুলনায় অর্ধেক আয়ও হয়নি, এমনও তথ্য সামনে আসে। এরপরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। নিজস্ব চিত্র