নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব আসতে চলেছে রাজ্য বিধানসভায়। এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। সোমবার তিনি বলেছেন, রাজ্যপালের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বিল আটকে পড়ে আছে। কিন্তু এভাবে দীর্ঘদিন বিল পড়ে থাকতে পারে না। এব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশও রয়েছে। তাই বিলের ক্ষেত্রে একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া প্রয়োজন। সেব্যাপারে সংবিধান সংশোধন প্রস্তাব বিধানসভা থেকে গ্রহণ করে কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হতে পারে। সেই সংক্রান্ত বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। প্রসঙ্গত, এর আগে ২৩টি বিল রাজ্যপালের কাছে আটকে ছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। পরে ৫টি বিলে ছাড়পত্র দেন রাজ্যপাল। বিধানসভায় পাস হওয়া বিল দ্রুত ছাড়পত্র রাজ্যপাল দিন, এমনটাই দাবি সরকার পক্ষের।
এদিকে, কাগজ ছিঁড়ে বিধানসভার অধিবেশনের সুষ্ঠু পরিবেশকে নষ্ট যেন কোনওভাবেই করা না হয়, সেব্যাপারে বিধায়কদের আচরণের দিকে এবার কড়া নজর রাখবেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। ফলে অধিবেশন পর্বে বিধায়কদের যে সমস্ত কাগজপত্র দেওয়া হয়, তা বিরোধী দলের বিধায়কদের প্রদান করা হবে কি না, তা ঘটনা প্রবাহের উপর নির্ভর করবে। বিমানবাবু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিরোধী দলের বিধায়কদের পারফরম্যান্সের উপর সবটা নির্ভর করবে। ৯ জুন থেকে শুরু হচ্ছে বিধানসভার অধিবেশন। সপ্তাহ দুয়েক এই অধিবেশন চলার কথা। এই অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ হল, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি প্রস্তাব আনা হবে। দেশকে সুরক্ষিত রাখতে সেনাবাহিনীর সংগ্রামকে কুর্নিশ জানানো হবে বিধানসভা থেকে। বিধানসভার অধিবেশন পর্বের আলোচনায় উঠে আসবে অপারেশন সিন্দুরের প্রসঙ্গ।
এছাড়াও বেশ কয়েকটি বিল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের উপর আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বিধানসভার অধিবেশনে। বিভিন্ন ইস্যুতে তৃণমূল ও বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে তর্ক লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এখানেই উঠে এসেছে কাগজ ছিঁড়ে ফেলার প্রসঙ্গ। এর আগে বিধানসভার অধিবেশনে দেখা গিয়েছে, বুলেটিন, বিল সহ অন্যান্য কাগজ বারবার ছিঁড়ে ফেলেছেন বিজেপি বিধায়করা। এমনকী বিধানসভার অধ্যক্ষের দিকে কাগজ ছুড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে। একাধিকবার সতর্ক করার পরেও বিজেপি বিধায়করা সংযত না হওয়ায় কড়া পদক্ষেপ নেন অধ্যক্ষ। বিজেপি বিধায়কদের অধিবেশন কক্ষে কাগজ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কয়েকজন বিজেপি বিধায়ক অনুরোধ করেন কাগজ দেওয়ার প্রথা চালু করার জন্য। এরপর অধ্যক্ষ তা চালু করেন। তবে আগামী অধিবেশন পর্বে বিজেপি বিধায়করা কী পদক্ষেপ করেন, সেদিকে নজর রাখা হবে বলে বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে খবর।