নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলায় সংশ্লিষ্ট ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে সাক্ষী না করায় চরম বিস্ময় প্রকাশ করল আদালত। তদন্তে গাফিলতি প্রসঙ্গে বিচারক তদন্তকারী পুলিস অফিসার, থানার আই সি এবং সিআই’র ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। এমনকী, কারণ দর্শানোর পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য পুলিস সুপারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সম্প্রতি বনগাঁর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক প্রদীপকুমার অধিকারী ওই আদেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন এ বিষয়ে পুলিস সুপারকে আদালতে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশও দেন তিনি। তিন পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে আদালতের এই কড়া নির্দেশ ঘিরে ইতিমধ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা পুলিস ও প্রশাসনিক মহলে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের আগস্ট মাসে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানা এলাকায় এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস আত্মহত্যায় প্ররোচনার একটি মামলা দায়ের করে মৃত যুবকের স্ত্রী ও তাঁর শাশুড়ির বিরুদ্ধে। মামলায় অভিযুক্ত ওই তিনজন বর্তমানে জামিনে আছেন। পরবর্তী সময়ে পুলিস আদালতে চার্জশিট পেশ করে। সেখানে দেখা যায়, ওই ঘটনায় যিনি মৃত যুবকের ময়নাতদন্ত করেন, সেই চিকিৎসককেই মামলায় সাক্ষীর তালিকায় রাখা হয়নি। মামলার শুনানি চলাকালীন বিষয়টি আদালতের নজরে আসায় বিচারকও এনিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভরা এজলাসে বিচারক জানান, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে সাক্ষী না করাটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এতে মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজলাসে সরকারি কৌঁসুলিও তদন্তকারী পুলিস অফিসারের গাফিলতির বিষয়টি স্বীকার করে নেন। তিনি পিটিশন দিয়ে আদালতকে জানান, এই মামলায় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে সরকারপক্ষ সাক্ষী করতে চায়। পাশাপাশি, যিনি মৃত যুবকের সুরৎহাল করেছিলেন, তাঁকেও সাক্ষী করতে চায় সরকার। এরপরই ফৌজদারি কার্যবিধির নির্দিষ্ট ধারা মোতাবেক বিচারক সরকারপক্ষের ওই আর্জিতে সিলমোহর দেয়। সেই সঙ্গে বিচারক এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁর নির্দেশে বেশ কয়েকটি মামলায় পুলিসি তদন্তে গাফিলতির উল্লেখ করেন এবং ওই তিন পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার কথা বলেন। মামলার তদন্তের বিষয়ে পুলিসের আরও বেশি যত্নশীল হওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আইনজীবী মহলের একাংশের বক্তব্য, কোনও একটি মামলায় একসঙ্গে তিন পদস্থ পুলিস আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন কড়া পদক্ষেপ সাম্প্রতিককালে খুব একটা দেখা যায়নি। এখন জেলা পুলিস কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখার।