


অভিষেক পাল, বহরমপুর: কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে সিপিএমের একের পর এক নেতা-কর্মী খুন হয়েছে। মুর্শিদাবাদের মাটিতে দাঁড়িয়ে অতীতের সেই অধ্যায় তুলে ধরে কংগ্রেস ও অধীরের ‘দুষ্কৃতী সিন্ডিকেট’ নিয়ে আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএমকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি, বামেরা বহরমপুরে প্রার্থী দেয়নি। তাহলে বাম সমর্থকরা কি অধীর চৌধুরীকে ভোট দেবে? যে কংগ্রেসের হাতে একসময় বামেরা সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত হয়েছিল, তাদের ভোট দেবে?’
বহরমপুর আসন থেকে এবার লড়ছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক সুব্রত মৈত্র। সিপিএম এখানে প্রার্থী দেয়নি। সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের প্রার্থী হয়েছেন আবুল কাশেম শেখ। এই কেন্দ্রের সিপিএম কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ‘বামপন্থী বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, ২৩তারিখ ভোটটা কাকে দেবেন? অধীর চৌধুরীকে? যাঁর দুর্নীতির, অত্যাচারের সিন্ডিকেট যখন মধ্যগগনে ছিল, সিপিএমের একের পর এক কর্মী এই জেলায় অত্যাচারিত হয়েছেন। কিন্তু ২০১১সালে পালাবদলের পরে এখানে কোনো সিপিএম নেতা-কর্মীর উপর অত্যাচার হয়নি।’
বাম জমানায় এই কেন্দ্রে সিপিএম কর্মীদের উপর কংগ্রেসের অত্যাচারের বেশ কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। অভিষেক বলেন, পালাবদলের আগে খাগড়া চৌমাথায় খুন হয়েছিলেন সিপিএমের যুব নেতা দেবাশিস ঘোষাল ওরফে রান্তা। কংগ্রেসের গুন্ডাদের হাতে খুন হয়েছিলেন মানব সাহা, পঞ্চানন মণ্ডল, হরিদাসমাটির গোপাল মণ্ডল, মধুপুরের তিন ছাত্র নেতা বাপ্পা, সন্তু, পিন্টু, ভরতপুরের তপন মুখোপাধ্যায় সহ অনেকে। তাঁদের কে খুন করেছে? ২৩তারিখ ভোট কাকে দেবেন?
অভিষেক যখন মঞ্চে অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগছেন, তখন সবচেয়ে বেশি করতালি দিয়ে সমর্থন জানাতে দেখা গেল মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের তিন শীর্ষ নেতাকে। শনিবার তাঁরা অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন। এঁরা হলেন, রাজ্য কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা জঙ্গিপুরের নেতা হাসানুজ্জামান বাপ্পা, ওই দলের জঙ্গিপুরের সভাপতি রবিউল রহমান এবং মালদহের সাধারণ সম্পাদক তথা প্রদেশ কংগ্রেসের সাধরণ সম্পাদক সাইদুর রহমান। তাঁরা বলেন, অধীর চৌধুরী আমাদের সম্মান দেন না। উনি বিজেপির ছত্রছায়ায় রয়েছেন। তাই বিজেপিকে পরাস্ত করার উদ্দেশ্যে তৃণমূলে যোগ দিলাম।