নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের (আইএসআই) সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত নতুন আইএসআই আইনের বিরোধিতা করে সর্বসম্মত প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বরানগরে আইএসআই অডিটোরিয়ামে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত নতুন আইনটি নিয়ে আলোচনা করার জন্য বিশেষ এজিএম ডাকা হয়। এখানে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে আইএসআইয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ১৯৫৯ সালের আইনটিতে কোনও সংশোধন করার উদ্যোগ নিক। কিন্তু কোনও নতুন আইন যেন না আনা হয়। নতুন প্রস্তাবিত আইনে আইএসআইয়ের গঠন ও কাজকর্মের ধরন পুরোপুরি পরিবর্তন করার ব্যবস্থা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এজিএম থেকে একটি প্রতিবাদপত্রের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই প্রতিবাদপত্রে অনলাইনে সই সংগ্রহ করে সেটি কেন্দ্রীয় সংখ্যাতত্ত্ব ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। এই মন্ত্রকের অধীনেই আইএসআই পরিচালিত হয়। এশিয়াটিক সোসাইটির এজিএমে সংস্থার ডিরেক্টর সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। পদাধিকারবলে তিনি সোসাইটির সচিবও। জানা গিয়েছে, নতুন বিলটি নিয়ে সরাসরি কোনও মতামত ডিরেক্টর দেননি। বাকি সব বক্তাই নতুন প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় আইনের তীব্র বিরোধিতা করেন।
কেন্দ্রীয় সরকার আইএসআইয়ের জন্য যে নতুন আইনটি তৈরি করতে চাইছে তাতে এখানে কোনও সোসাইটি রাখা হচ্ছে না। ১৯৩১ সালে বিশিষ্ট পরিসংখ্যানবিদ প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ আইএসআই প্রতিষ্ঠার সময় সোসাইটি হিসেবে এটি গড়ে তুলেছিলেন। প্রথম থেকে রেজিস্টার্ড সোসাইটি হিসেবে এই সংস্থাটি কাজ করছে। জওহরলাল নেহরুর প্রধানমন্ত্রিত্ব কালে ১৯৫৯ সালে প্রথম আইএসআই আইনটি কার্যকর করা হয়। ওই আইনেও আইএসআইয়ের সোসাইটি চরিত্র বজায় রাখা হয়। আইএসআই সোসাইটিতে এখন প্রায় ১৩০০ জন সদস্য আছেন। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা এই সোসাইটির সদস্য হতে পারেন। সোসাইটির সদস্যদের ভোটে আইএসআইয়ের প্রেসিডেন্ট ও কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্য নির্বাচিত হন। দুবছর আগে ভোটাভুটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নমিনিকে হারিয়ে আইএসআইয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত ডিরেক্টর শংকরকুমার পাল প্রেসিডেন্ট পদে দ্বিতীয়বারের জন্য নির্বাচিত হন।
আইএসআইয়ের জন্য যে নতুন আইনটি কেন্দ্রীয় সরকার করতে চাইছে তাতে প্রেসিডেন্ট এবং সোসাইটির কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। আইএসআইয়ের কাউন্সিলও বিলুপ্ত হবে। সেই জায়গায় কেন্দ্রীয় সরকার মনোনীত বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের হাতে আইএসআই পরিচালনার পুরো ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইএসআইয়ের সঙ্গে শিক্ষাবিদসহ অন্যরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে নতুন আইন তৈরি করতে চাইছে তাত প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ যে আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিয়ে আইএসআই গড়েছিলেন তার কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না।
এজিএমে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সোসাইটিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন আইন করতে চাইছে। এই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পর্যন্ত সোসাইটির সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করেনি। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সঞ্জীব সান্যাল সম্প্রতি আইএসআই প্রতিষ্ঠাতার সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তার নিন্দা করেছে এজিএম।