


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সূত্র বলতে ছিল দিল্লি ও কলকাতায় মেট্রো স্টেশন সহ কয়েকটি জায়গায় সাঁটানো কিছু সন্দেহজনক পোস্টার। সেই পোস্টার কারা সাঁটিয়েছে, তদন্তে নেমেই ফাঁস হল দেশজুড়ে লস্কর-ই-তোইবার সন্ত্রাসবাদী হামলার ছক! কলকাতা ও তামিলনাড়ুতে অভিযান চালিয়ে আট লস্কর জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। এর মধ্যে কলকাতার নিউটাউন থেকে ধরা হয়েছে দু’জনকে। তারা হাতিয়াড়া এলাকায় বসবাস করছিল। বাকিদের তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটজনের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশের জঙ্গি। গোয়েন্দাদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে একটি বিষয়, মূল নির্দেশ পাকিস্তান থেকে এলেও পুরো মডিউলটি পরিচালনা করা হচ্ছিল বাংলাদেশে বসে। সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছিল, দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন জনবহুল এলাকা এবং দেশের বড়ো শহরগুলির ধর্মীয় স্থানগুলিতে নাশকতার ছক কষছে লস্কর। গোয়েন্দাদের ধারণা, ধৃত জঙ্গিদের সঙ্গে সেই পরিকল্পনার যোগ থাকতে পারে। ধৃতদের থেকে আটটি মোবাইল ফোন ও ১৬টি সিম কার্ড মিলেছে। সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
কীভাবে ফাঁস হল নাশকতার ছক? চলতি মাসের শুরুতে দিল্লির কাশ্মীরি গেট সহ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের স্তম্ভে দেশবিরোধী পোস্টার সাঁটা হয়। সিআইএসএফ বিষয়টি জানায় দিল্লি পুলিশকে। দেখা যায়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও এক ধরনের দেশবিরোধী বার্তা পোস্ট করা হচ্ছে। সেই ছিল সূত্র। তদন্তে নামে পুলিশ। উঠে আসে নিউটাউনে বসবাসকারী রবিউল ইসলাম ও উমর ফারুকের নাম। কারা এরা? রবিউল বাংলাদেশের বাসিন্দা। আর উমরের বাড়ি মালদহে। এই একজনই ভারতীয়। সম্প্রতি সে বাংলাদেশেও গিয়েছিল। সেখানে তাকে দিল্লি, কলকাতা সহ একাধিক শহরে পোস্টার লাগানো ও হামলার আগে রেকি করার নির্দেশ দিয়েছিল সাব্বির আহমেদ লোন নামে এক লস্কর জঙ্গি। আদতে কাশ্মীরের গান্ধেরবালের বাসিন্দা এই সাব্বিরই মডিউলের মাথা। ২০০৭ সালেও আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল সে। কিন্তু তার আগেই একে-৪৭ রাইফেল ও গ্রেনেড সহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৯ সালে ছাড়া পেয়ে সাব্বির পালিয়ে যায় বাংলাদেশে। সেখান থেকেই সে লস্করের সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরি করে। সেই সূত্রে সাতজনকে ভারতে পাঠায় সাব্বির। প্রত্যেকের জন্য তৈরি হয় ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, কলকাতার কয়েকটি মেট্রো স্টেশনেও দেশবিরোধী পোস্টার সাঁটা হয়েছিল। রবিউল ও উমরকে ধরার পর তাদের জেরা করে খোঁজ মেলে তামিলনাড়ুর ৬ জনের। সেখানে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। একে একে ধরা পড়ে প্রত্যেকে। সেখানে তারা পোশাক কারখানায় শ্রমিকের ছদ্মবেশ ধরে ছিল।
এই মডিউলে আরও কয়েকজন সদস্য থাকতে পারে। তারা বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। তাদের ধরতে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে। ধৃত আটজনকে জেরার জন্য দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই মডিউলকে টাকা কে বা কারা জোগাত, কোন জায়গায় তারা হামলার ছক কষেছিল, তাও জানার চেষ্টা হচ্ছে।