আমেদাবাদ: জয়ের জন্য ৬ বলে পাঞ্জাব কিংসের প্রয়োজন ২৯ রান। জস হ্যাজলউডের প্রথম দু’টি ডেলিভারি ডট হতেই ‘বিরাট’ আবেগে ভাসল মোতেরা স্টেডিয়াম। শাপমুক্তি ঘটিয়ে স্বপ্নপূরণ! প্রথম আইপিএল খেতাব নিশ্চিত বিরাটের! ‘কোহলি, কোহলি’ শব্দব্রহ্মে তখন কান পাতা দায়। স্বয়ং মহাতারকারও চোখে আনন্দাশ্রু! তা লুকোনোর জন্য দু’হাতে মুখ ঢাকলেন তিনি। আর ওভার শেষ হতেই হাঁটু মুড়ে বসে পড়লেন মাটিতে। সতীর্থরাও দৌড়ে এসে বিরাটকে ঘিরে ধরে মেতেছেন সেলিব্রেশনে। ততক্ষণে গ্যালারি থেকে মাঠে ঢুকে পড়েছেন স্ত্রী অনুষ্কা শর্মাও। তাঁকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে থাকলেন কিং কোহলি!
১৭ বছর পর স্বপ্নপূরণের মুহূর্তটা তো এমনই হওয়ার উচিত। মঙ্গলবার মোতেরায় পাঞ্জাব কিংসকে ৬ রানে হারিয়ে প্রথমবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সাফল্যের কান্ডারি কিং কোহলিই। ২০০৮ সাল থেকে আরসিবি’র জার্সি গায়ে খেলছেন বিরাট। তিন-তিনবার ফাইনালেও উঠেছিলেন। কিন্তু প্রত্যেকবারই ফিরতে হয় খালি হাতে। অবশেষে কেরিয়ারের শেষলগ্নে আইপিএলে শাপমুক্তি ঘটায় পূর্ণ হল বৃত্ত।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে আরসিবি ১৯০ রান তোলার পরেও অনেকেই ছিলেন দোলাচলে। আসলে বিপক্ষ দলে শ্রেয়স আয়ারের উপস্থিতি উদ্বেগে রেখেছিল আরসিবি সমর্থকদের। গত ম্যাচে তিনি একাই শেষ করে দিয়েছিলেন মুম্বইকে। কিন্তু খেতাবি মঞ্চে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ শ্রেয়স। শেফার্ডের বলে মাত্র ১ রানে তিনি কট বিহাইন্ড হতেই জয়ের গন্ধ পেয়ে যান বিরাটরা। একা জস ইংলিস কিছুটা লড়াই করেন। কিন্তু ৩৯ রানে ক্রুণাল পান্ডিয়া তাঁকে ফেরানোর পর চাপে পড়ে যায় পাঞ্জাব। দুই ওপেনার প্রিয়াংশ (২৪) ও প্রভসিমরনও (২৬) ব্যর্থ। তবে বাউন্ডারি লাইনে ফিল সল্ট অনবদ্য প্রয়াসে দু’বারের প্রচেষ্টায় প্রিয়াংশের ক্যাচ তালুবন্দি করে দলকে দারুণভাবে উজ্জীবিত করে তোলেন। অবশ্য ৯৮ রানে চার উইকেট হারানোর পরেও হাল ছাড়েনি পাঞ্জাব। ওয়াধেরা ও শশাঙ্ক সিং পাল্টা প্রত্যাঘাতে জয়ের আশা জাগিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়েও দলকে জেতাতে ব্যর্থ হন শশাঙ্ক (৬১ অপরাজিত)।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫৬ রানে ২ উইকেট খোয়ায় আরসিবি। আশা জাগিয়েও বড় রান পাননি ফিল সল্ট (১৬) ও মায়াঙ্ক আগরওয়াল (২৪)। তবে বিরাটের চওড়া ব্যাট শক্ত ভিত গড়ে দেয় আরসিবি’র। ৩৫ বলে ৪৩ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছেন মহাতারকা। যা সাজানো ছিল ৩টি বাউন্ডারিতে। বিরাট ছাড়া আর কোনও ব্যাটারকে সেভাবে আত্মবিশ্বাসী লাগেনি। আসলে কোহলি যে বড় মঞ্চের নায়ক। তিনি জানেন, এই ধরনের ম্যাচে চাপ সামলেই ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে হবে রানের মিনার।
কোহলি ৪৩ রানে যখন ওমরজাইয়ের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিলেন, তখন বেঙ্গালুরুর স্কোর ১৩১-৪। অনেকে ধরে নিয়েছিলেন, ভিকে’র ক্যাচ নয়, যেন ম্যাচটাই তালুবন্দি করে ফেললেন পাঞ্জাবের আফগান অলরাউন্ডার। কিন্তু লিভিংস্টোন ও জিতেশ শর্মা ঝোড়ো ইনিংসে সেই সম্ভাবনায় জল ঢেলে দেন। ডেথ ওভারে পাঞ্জাবের বোলাররা রানের গতিতে কিছুটা লাগাম টানেন। তাই দুশো পেরোয়নি আরসিবি’র স্কোর। প্রশংসা করতেই হবে অর্শদীপ সিংয়ের। অন্তিম ওভারে তিন উইকেট নেন বাঁ হাতি পেসার। তবে পাঞ্জাব ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় তা কাজে আসেনি।
ম্যাচের সেরা- ক্রুণাল পান্ডিয়া
অরেঞ্জ ক্যাপ-সাই সুদর্শন
পার্পল ক্যাপ- প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা
এমার্জিং ক্রিকেটার- সাই সুদর্শন